Image description

উৎসবের রং আর পরিবারের উষ্ণতার চেয়ে দেশের জার্সিটাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড়। আর তাই তো ঈদের দিন সকালেই পরিবারের মায়া ত্যাগ করে সবুজ গালিচায় ঘাম ঝরাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা।

দেশের ফুটবলে এখন বেশ ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে। একদিকে যেমন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের পতাকা ওড়াতে মাঠে নামার অপেক্ষায় প্রস্তুত হচ্ছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের মেয়েরা, অন্যদিকে ঠিক তেমনি নতুন কোচের অধীনে নিজেদের শানিত করতে ব্যস্ত পুরুষ দল।

 

ফুটবলের এই ব্যস্ত সূচিতে জাতীয় কর্তব্যের কাছে ব্যক্তিগত আনন্দকে হাসিমুখেই দূরে সরিয়ে রেখেছেন ফুটবলাররা। এই ত্যাগের মাঝেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফিরেছেন দেশের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো।

 

ঈদের দিন সকালে অনুশীলনের ফাঁকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জিকো শোনালেন তার এই প্রত্যাবর্তনের গল্প ও দেশের প্রতি ভালোবাসার কথা। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গর্বটা তার কাছে অনেক বেশি।

জিকো বলেন, 'ঈদের দিন আমাদের মুসলিমদের জন্য অবশ্যই আনন্দের। ফ্যামিলির সাথে ঈদ করতে পারছি না, একটু তো খারাপ লাগছেই। কিন্তু দেশের জন্য এই ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। এর আগেও অনেকবার করেছি।'

 

ঈদের সকালের ব্যস্ত রুটিন নিয়ে তিনি জানান, 'সকাল থেকেই আমরা ব্যস্ত। ভোর ৬টায় উঠেছি। এরপর সবাই মিলে ঈদের নামাজে গেছি। নামাজ শেষে ব্রেকফাস্ট করেই সরাসরি মাঠে চলে এসেছি।'

প্রায় দুই বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর ঘরোয়া ফুটবলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে আবারও চেনা আঙিনায় ফিরেছেন জিকো। সদ্য সমাপ্ত মৌসুমে ট্রেবল জয়ের আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে জাতীয় দলে ফেরা এই তারকা গোলরক্ষক নিজের কঠিন পথচলা নিয়ে বলেন, 'দলে ফেরার জন্য অনেকদিন ধরেই কষ্ট করছি, অনেক হার্ডওয়ার্ক করেছি। সকাল-বিকাল জিম করেছি। এটার পেছনে আমাদের গোলকিপার কোচ নুরুজ্জামান নয়ন ভাইও অনেক সাপোর্ট করেছেন। গত দুই বছর বলতে গেলে দলের বাইরেই ছিলাম। তবে এই সিজন পুরোটাই খেলেছি, ট্রেবলও জিতেছি। জার্নিটা অনেক কঠিন ছিল, তবে ন্যাশনাল টিমে ফিরে এখন সত্যিই খুব ভালো লাগছে।'

দলের বাইরে থাকার অতীত নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই জিকোর কণ্ঠে। তিনি বলেন, 'অতীত তো পাস্ট হয়ে গেছে, তাই এটা নিয়ে আর কথা বলতে চাচ্ছি না। এখন দলে আছি, ইনশাআল্লাহ আমার জার্নিটা এখানেই কন্টিনিউ করবে।'

দীর্ঘদিন পর দলে ফিরলেও ফিটনেস এবং আত্মবিশ্বাসের কোনো ঘাটতি নেই তার। তবে দলে নিজের জায়গা পাকা করার একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার কথাও স্বীকার করে নিলেন তিনি। জিকোর ভাষায়, 'আমি পুরোপুরি ফিট আছি। লিগে খেলেছি বলে আত্মবিশ্বাসও আছে। নতুন কোচ এসেছেন, সব মিলিয়ে এনজয় করছি। তবে চ্যালেঞ্জটা বেশি কারণ দলের অন্যরাও এখন ভালো খেলছে। আমি যদি আমার জায়গাটা ফিরে পাই, সুযোগ পেলে অবশ্যই আমার সেরাটা দেব।'