ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আসরের পর্দা উঠছে ১১ জুন, যেখানে প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নেবে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই আসরকে সামনে রেখে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল।
তবে এবারের বিশ্বকাপ অভিযানে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং লজিস্টিক নিরাপত্তা ইস্যু।
১৩ মে (বুধবার) তেহরানের ঐতিহাসিক এঙ্গেলাব স্কোয়ারে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে জাতীয় দলকে বিদায় জানানো হয়। হাজারো সমর্থকের উপস্থিতিতে দলের নতুন জার্সি এবং একটি থিম সং উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র আবেগ দেখা যায়। কেউ কেউ এই সফরকে শুধুই ফুটবল হিসেবে দেখলেও, অনেকের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের অংশগ্রহণকেই এক ধরনের প্রতীকী সাফল্য হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানায়, বিশ্বকাপের মূল পর্বের আগে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করতে ইরান দল আগামী ১৮ মে তুরস্কের আনতালিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে। সেখানে তারা দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে, যার মধ্যে ২৯ মে গাম্বিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচ চূড়ান্ত হয়েছে। এছাড়া টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রেও একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
কূটনৈতিক জটিলতার কারণে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা ভিসা ও যাতায়াত সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন বলেও জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে ফিফা দুঃখ প্রকাশ করে আলাদা বৈঠকের আশ্বাস দিয়েছে।
ফেডারেশন প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো রাজনৈতিক বিরোধ নেই এবং ইরান বিশ্বকাপে যাচ্ছে যোগ্যতা অর্জনের ভিত্তিতে। তিনি আরও বলেন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে ও চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।
আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানকে গ্রুপ ‘জি’-তে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে দেখা যাবে।
তাদের প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে, এরপর ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে দলটি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এমন প্রতিকূলতা অনেক সময় ইরান দলের মধ্যে আরও ঐক্যবদ্ধ ও লড়াকু মনোভাব গড়ে তুলবে।