Image description

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বশেষ আসরে সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলেছিলেন নাসুম আহমেদ। ১২ ম্যাচ খেলে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ উইকেট নেন তিনি। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার পর্যন্ত পৌঁছায় সিলেট। তবে দলকে সাফল্য এনে দিলেও হতাশা কাটেনি নাসুম আহমেদের। তিনি জানিয়েছেন, এখনো ৩৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে তার।

এই পরিস্থিতি ঘিরে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে একটি আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সিলেট টাইটান্স। সেখানে নাসুমের পাওনা অর্থ পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নিচে সেই বিবৃতিটি হুবহু তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য:

চুক্তিবদ্ধ পাওনা পরিশোধ: বিপিএল ২০২৫-২০২৬ মৌসুমের খেলোয়াড়দের পাওনা সংক্রান্ত বিষয়টি গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যালয়ে চূড়ান্তভাবে সুরাহা হয়েছে। নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী, ক্রিকেটার নাসুম আহমেদের মোট পাওনা ছিল ৩৫ লক্ষ টাকা (বি-ক্যাটাগরি), যার সম্পূর্ণ অংশ সিলেট টাইটান্স ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে উক্ত ক্রিকেটারের কোনো বকেয়া পাওনা প্রতিষ্ঠানের নিকট অবশিষ্ট নেই।

মৌখিক আলোচনা ও বোনাস সংক্রান্ত ব্যাখ্যা: নিলামের পূর্বে খেলোয়াড়ের সঙ্গে পারিশ্রমিক ও বোনাস নিয়ে কিছু মৌখিক আলোচনা হয়েছিল। সেখানে শর্ত ছিল যে, দল যদি চ্যাম্পিয়ন হয় তবে অতিরিক্ত বোনাস প্রদান করা হবে। যেহেতু দল কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, তাই উক্ত মৌখিক বোনাস প্রদানের কোনো আইনি বা চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা নেই। মূলত স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্রের শর্তাবলী অনুযায়ীই সব আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করা হয়েছে।

চেক ও পেমেন্ট পদ্ধতি সংক্রান্ত স্পষ্টীকরণ: নাসুম আহমেদের বিশেষ অনুরোধে তার প্রাপ্য অর্থ নগদে সরাসরি পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি ব্যাংকের মাধ্যমে না দেয়ার জন্য শুরুতেই অনুরোধ করেন। টুর্নামেন্ট চলাকালীন নিরাপত্তার খাতিরে অগ্রিম হিসেবে প্রদত্ত চেকগুলো অন্যান্য খেলোয়াড়রা পেমেন্ট বুঝে নিয়ে ফেরত দিলেও, নাসুম আহমেদ তা এখনো ফেরত দেননি। বিসিবি কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে পাওনা বুঝে নেওয়ার দিনে তিনি অনুপস্থিত থাকায় এবং পরবর্তীতে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও উক্ত চেকগুলো ফেরত না দেওয়া অনভিপ্রেত।

সিলেট টাইটান্স সর্বদা খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব এবং প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই যে, চুক্তি অনুযায়ী নাসুম আহমেদের যাবতীয় পাওনা ইতিমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজির নিকট তাঁর কোনো অর্থ পাওনা নেই। আমরা আশা করি, এই বিবৃতির পর উক্ত বিষয়টি নিয়ে সকল প্রকার ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে।