Image description

কাগজে লেখা থাকবে ২৯টি অঙ্ক ও ইংরেজি অক্ষর। এই কোড হবে রোবটের পরিচয়।নাগরিকদের মতো রোবটের জন্যও এমন জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করছে চীন। প্রতিটি মানবাকৃতির রোবটের থাকবে স্বতন্ত্র পরিচয়পত্র।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বিকাশমান রোবট শিল্পে পূর্ণাঙ্গভাবে নজরদারি ও স্পষ্ট জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

পরিচয়পত্রের নম্বরের মাধ্যমে একটি রোবটের ব্র্যান্ডের জাতীয়তা, কোম্পানি, পণ্যের মডেল ও সিরিয়াল নম্বর শনাক্ত করা যাবে। এতে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, হার্ডওয়্যার প্যারামিটার, বুদ্ধিমত্তার স্তর এবং কারখানার নিবন্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এই ডিজিটাল পরিচয়পত্রের মাধ্যমে যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড ও ব্যবহার পরিস্থিতিসহ পুরো জীবনচক্রের তথ্যে নজর রাখা যাবে। একই সঙ্গে ব্যাটারির অবস্থা এবং কার্যক্রমের নির্ভুলতার মতো তাৎক্ষণিক তথ্যও যেকোনো সময় দেখা যাবে বলে জানান উহানের হুপেই হিউম্যানয়েড রোবোট ইনোভেশন সেন্টারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা লিউ ছুয়ানহৌ। এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি বলেছেন, ‘কোনো রোবট বিকল হলে তার স্বতন্ত্র পরিচয় নম্বরের মাধ্যমে আমরা পরিচালন লগ ও রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড পরীক্ষা করে ত্রুটির উৎস শনাক্ত ও মেরামত করতে পারব।’

কেন্দ্রটি এরইমধ্যে শিল্প ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রথম ধাপের প্রতিষ্ঠান ও পণ্যের আবেদন এবং কোডিং পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। সংশ্লিষ্ট জাতীয় মানদণ্ড প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিক নম্বর দেওয়া শুরু হবে।

বেইজিংভিত্তিক সিসিআইডি পাবলিশিং অ্যান্ড মিডিয়া ও চায়না ইলেকট্রনিক্স নিউজে মার্চ মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী মানবাকৃতির রোবটের চালান প্রায় ১৭ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে এবং বাজারের আকার দাঁড়িয়েছে দুই দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ইউয়ানে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে বর্তমানে মানবাকৃতির রোবট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৪০টির বেশি। চীনের রোবট বাজারের আকার ১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা বৈশ্বিক বাজারের ৫৩ দশমিক ৮ শতাংশ।