Image description

ইন্টারনেটে কোনো সাইটে প্রবেশের সময় ট্রাফিক লাইট বা বাস খুঁজে বের করার বিরক্তি থেকে হয়তো মুক্তি মিলছে, কিন্তু তার বদলে আসছে রি-ক্যাপচা নতুন এক বিতর্ক। ‘আই অ্যাম নট এ রোবট’ বা প্রচলিত ক্যাপচা পদ্ধতির পরিবর্তে গুগল নিয়ে আসছে কিউ আর  কোড ভিত্তিক রি-ক্যাপচা পদ্ধতি। তবে এই সহজ পদ্ধতির আড়ালে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 

কীভাবে কাজ করবে এই নতুন পদ্ধতি? 
  
সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া স্ক্রিনশট থেকে জানা যায়, কোনো ওয়েবসাইটে ঢোকার আগে পর্দায় একটি কিউআর কোড প্রদর্শিত হবে।

ব্যবহারকারীকে তার স্মার্টফোন দিয়ে সেটি স্ক্যান করতে হবে। স্ক্যান করার পর ফোনের গুগল প্লে সার্ভিস থেকে একটি ডিজিটাল সিগন্যাল ওয়েবসাইটে পৌঁছাবে, যা নিশ্চিত করবে যে আপনি একজন প্রকৃত মানুষ, কোনো এআই বট নন।

 

গোপনীয়তা নিয়ে কেন এত ভয়?

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিটি ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং কার্যক্রম ট্র্যাক করার একটি নতুন হাতিয়ার হতে পারে।

ট্র্যাকিং: আপনি যদি ব্রাউজারে গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন নাও থাকেন, ফোন দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করার ফলে আপনার ফোন এবং জিমেইল আইডির সাথে ওই ওয়েবসাইটের তথ্য সরাসরি যুক্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে।

 

একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ: বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫৩ লাখের বেশি প্রতিষ্ঠান গুগলের রি-ক্যাপচা ব্যবহার করে। ফলে কোটি কোটি মানুষের অনলাইন গতিবিধি এখন সরাসরি গুগলের নজরদারিতে চলে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

বিপাকে পড়তে পারেন আইফোন ও কাস্টম ফোন ব্যবহারকারীরা

এই নতুন পদ্ধতিতে সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় পড়বেন যারা গুগল ইকোসিস্টেমের বাইরে থাকতে চান।

আইফোন: অ্যাপল ব্যবহারকারীদের হয়তো এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আলাদা করে 'রি-ক্যাপচা অ্যাপ' ডাউনলোড করতে হতে পারে।

 

কাস্টম রম ব্যবহারকারী: যারা নিরাপত্তা বা প্রাইভেসির জন্য ফোনে GrapheneOS বা এই জাতীয় কাস্টম রম ব্যবহার করেন এবং গুগল প্লে সার্ভিস ডিলিট করে দিয়েছেন, তারা সম্ভবত অনেক ওয়েবসাইটে আর ঢুকতেই পারবেন না।

কেন এই পরিবর্তন?

গুগলের দাবি, বর্তমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এতটাই উন্নত হয়েছে তারা সহজেই পুরনো ক্যাপচা সমাধান করে ফেলছে। তাই বট বা স্প্যাম ঠেকাতে ফোন-লিঙ্কড এই ভেরিফিকেশন পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর।

কবে নাগাদ চালু হবে?

গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও জানা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকেই এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে।

 

উল্লেখ্য, নতুন এই ব্যবস্থা ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সহজ করবে, নাকি ব্যক্তিগত তথ্যকে আরো বেশি উন্মুক্ত করে দেবে—তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

 

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে