বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এখন থেকে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের কেবল সাময়িক ভাতা নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন তিনি।
সভায় প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ফেডারেশনগুলোকে কেবল নামসর্বস্ব হলে চলবে না।
প্রতিটি ফেডারেশন ও সংস্থাকে গত এক বছরের সাফল্য, ব্যর্থতা এবং বর্তমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অলস বা অকার্যকর ফেডারেশনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে সমজাতীয় ফেডারেশনগুলোকে একীভূত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
খেলোয়াড়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় পর্যায়ের অ্যাথলেটদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার তাদের বেতনের আওতায় আনবে।
এ জন্য প্রতিটি ফেডারেশনকে জাতীয় খেলোয়াড়দের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি যাচাই-বাছাই শেষে এই বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।
প্রতিভা অন্বেষণের জন্য ঐতিহাসিক ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন আমিনুল হক। আগামী ঈদুল ফিতরের পরপরই দেশব্যাপী এই কার্যক্রম শুরু হবে।
এছাড়া তৃণমূল পর্যায় (উপজেলা, জেলা ও বিভাগ) থেকে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে ফেডারেশনগুলোর কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
খেলাধুলার খরচ কমাতে ক্রীড়া সামগ্রীর ওপর কর কমানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সিএসআর ফান্ডের একটি অংশ ক্রীড়া খাতে বাধ্যতামূলকভাবে বিনিয়োগ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার।
শীর্ষনিউজ