Image description

গেল জানুয়ারিতেই সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরাকে ঘিরে আলোচনা নতুন করে জোরালো হয়ে ওঠে। এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে আলোচনা কিছুটা স্তিমিত থাকলেও পুরোপুরি থামেনি প্রসঙ্গটি। ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট মহল থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম; সবখানেই প্রশ্ন ছিল একটাই সাকিব কি আবারও জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরবেন?

এমন সময়েই দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই ফের আলোচনায় সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা প্রসঙ্গ। তবে সাকিব, সরকার, বোর্ড সবাই প্রস্তুত থাকলেও বারবার সামনে আসছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশসেরা এই ক্রিকেটারের নামে যে মামলা হয়েছিল, তা নিষ্পত্তি কীভাবে হবে সেই প্রসঙ্গ!

এরপর সাকিব ও তার সমর্থকদের জন্য সুখবরও মিলেছিল। সাকিবের নামে থাকা মামলা জটিলতা কাটাতে খোদ বিসিবিই উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন বিসিবি পরিচালক ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। এবার বিসিবির আরেক পরিচালক জানালেন, সাকিবের মামলার ফাইল সচিবলায়ে যাচ্ছে। 

তিনি বলেছেন, 'আজকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে সাকিবের ফাইলের ব্যাপারে ব্রিফ করা হয়েছে। ওনি বলেছেন ফাইলটা সচিবকে দিয়ে দিতে। এটা আগামীকাল (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিব বরাবর পৌঁছে দেওয়া হবে এতটুকুই আপডেট।'

এর আগে গেল শনিবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ বলেছিলেন, ‘সাকিবের বিষয়টা চলমান ছিল। আমি সভাপতি হওয়ার পর থেকেই চেষ্টা করছি। সাকিবের ফিটনেস এবং প্রফেশনালিজম নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।'

তিনি আরও বলেছিলেন, 'ক্রিকেট বোর্ড সবসময় চায় সে বাংলাদেশের হয়ে খেলুক। সাকিব আমাদের জন্য একটা অ্যাসেট এবং ব্র্যান্ড। তার ফিটনেস দেখে তাকে সিলেক্ট করা আমাদের পার্ট, তবে আইনি বিষয়গুলো সরকার দেখছে। আশা করছি, আপনারা খুব দ্রুতই একটা সুখবর পাবেন।’

অন্যদিকে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরবেন সাকিব। সেদিন সাবেক বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার দেশে ফিরলে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে তাকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতো। তবে সূত্র বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরছেন না সাকিব।

উল্লেখ্য, গত বছরও একবার দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন সাকিব। সে সময় মাঝপথেই তাকে থামতে হয়েছিল। নানা জটিলতা ও পরিস্থিতির কারণে সেই ফেরা আর বাস্তবায়িত হয়নি।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন কানপুরে। খেলার পাশাপাশি সাকিব আল হাসান জড়িয়ে পড়েছিলেন রাজনীতিতে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময় কানাডায় গ্লোবাল টি-টোয়েন্টিতে খেলছিলেন সাকিব। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হওয়ায় আর দেশে ফিরেননি এই ক্রিকেটার। 

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিদায়ী টেস্ট খেলার কথা থাকলেও দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয় তাকে। সর্বশেষ দুবাই থেকে এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, তিনি দেশে ফিরতে চান এবং দেশে ফিরেই চেনা দর্শকদের সামনে বিদায় নিতে চান।