ভারতীয় উগ্রবাদীদের তোপের মুখে আইপিএল খেলতে পারেননি মুস্তাফিজুর রহমান। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশটিতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া সমীচিন মনে করেনি বিসিবি। তাই আইসিসির কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন করে। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা তা মানেনি।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশকে মানাতে নূন্যতম চেষ্টাও করেনি আইসিসি। বিসিসিআইও ছিল নির্ভাবনাহীন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আইসিসি আসল ইস্যু বাদ দিয়ে তার স্ট্যান্ডার্ড সিকিউরিটি প্রসিডিউর নিয়ে আলোচনা করেছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসি ভোটাভুটির পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানায়, খেলতে হলে ভারতের মাটিতেই খেলতে হবে। নয়তো ২৪ ঘণ্টার মাঝে না খেলার বিষয়টি জানাতে হবে।
সেই ইস্যুতে ক্রিকেটারদের সঙ্গে আজ বৈঠক করে বিসিবি ও ক্রীড়া উপদেষ্টা। সেই সভা থেকে বেরিয়ে বিশ্বকাপ ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, ভারতে গিয়ে খেলার ব্যাপারে আইসিসি কিংবা বিসিবিআই বাংলাদেশকে রাজি করার কোনো প্রকার চেষ্টায় করেনি।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘নিরাপত্তার ইস্যুতে আমাদের কনভিন্স করার জন্য আইসিসি কোনো চেষ্টাই করেনি। আইসিসি আসল ইস্যু বাদ দিয়ে তার স্ট্যান্ডার্ড সিকিউরিটি প্রসিডিউর নিয়ে আলোচনা করেছে। যে সমস্যা নিয়ে এই আলোচনা, সেই বিষয়েই কোনো স্ট্যান্ড নেয়নি আইসিসি। এমনকি ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও আমাদেরকে কনভিন্স করার কোনো চেষ্টা করেনি। ফলে আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই।’
আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘আইসিসি নামে তো কোনো দেশ নেই। তাদের আশ্বাসে আমরা কেন একটি দেশে খেলতে যাব। যেখানে উগ্রবাদীদের কাছে মাথা নত করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আমাদের দেশের একজন সেরা ক্রিকেটারকে ভারত থেকে বের করে দিতে বলেছে। সেখানে কী এমন পরিবর্তন হয়েছে যে, আমরা সেখানে খেলতে যাব। আমরা কিভাবে ভাববো যে, সেখানে উগ্রবাদীদের আস্ফালন ঘটবে না?
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা মনে করি, আইসিসি থেকে কোনো সুবিচার পায়নি। আমরা এখনও আশা করছি, আইসিসি সুবিচার করবে। অন্য দেশে গিয়ে বিশ্বকাপে খেলার এমন অনেক নজির আছে। আমরা আশা করবো, আইসিসি আমাদেরকে শ্রীলঙ্কায় গিয়ে খেলার সুযোগ করে দেবে। সেই আশাবাদ নিয়ে এখনও অপেক্ষা করছি।’