ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বললেন, “আজকে এই অবস্থানে আসার পেছনে অনেকগুলা কারণ আছে…।” পর্যায়ক্রমে একটি একটি করে সেই কারণগুলো তুলে ধরলেন কোয়াবের সহ-সভাপতি নুরুল হাসান সোহান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুর রহমান শুভ, তিন সংস্করণের জাতীয় দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন কুমার দাস।
ঢাকার একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার এই সংবাদ সম্মেলনে কোয়াব সভাপতি মিঠুন বললেন, অনেক দিনের অবহেলায় তাদের ভেতর ক্ষোভ জমা হয়েছে। ক্রিকেটারদের নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত নানা মন্তব্যের পর সেগুলোর বিস্ফোরণ হয়েছে।
“আপনাদের হয়তো মনে হতে পারে যে, একটা ইস্যু নিয়ে আমরা কথা বলছি। কিন্তু দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বিসিবির সঙ্গে অনেক বিষয় নিয়ে প্রতিনিয়ত ক্লোজড ডোর, ওপেন ডোরে, সবভাবে চেষ্টা করেছি সমাধান করার। কিন্তু দুঃখের বিষয় এটাই যে বিসিবি থেকে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সমাধান পাইনি।”
“না হলেও ১৫ থেকে ২০টি ইস্যু নিয়ে আমরা বিসিবির কাছে প্রতিনিয়ত গিয়েছি। কিন্তু কোনো একটি ব্যাপার নেই, যেটির সমাধান আমরা বিসিবি থেকে পেয়েছি। এটা খুবই দুঃখের বিষয়। সবকিছুরই একটা লিমিট আছে। লিমিট ক্রস করে গেলে অ্যাকশন ছাড়া আর বিকল্প কোনো অপশন থাকে না। আমরা আজকে যেটাই করছি, অসহায় এবং বাধ্য হয়েই করা।”
অন্যান্য কারণগুলির প্রথমটি দুলে ধরলেন নুরুল হাসান সোহান, যিনি বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছে। ঢাকার লিগ ক্রিকেটের অচলাবস্থার কথা তুলে ধরলেন তিনি।
“ঢাকা ঢাকা লিগ নিয়ে বলবে যে, ফার্স্ট ডিভিশন, সেকেন্ড ডিভিশন, থার্ড ডিভিশন নিয়ে কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। বিসিবি হয়তো কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে এবং নিতে চেয়েছে। কিছু কারণে এই জিনিসগুলো যথাযথ হচ্ছে আমাদের সবারই একটা কনসার্নের ব্যাপার আছে যে, শুধু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নয়, ফার্স্ট ডিভিশন, সেকেন্ড ডিভিশন, থার্ড ডিভিশন, সবাই মিলে আসলে যাতে ক্রিকেট খেলাটা যথাযথভাবে মাঠে হয়। এটাই আসলে আমাদের সবার আশা।”
‘জনগনের ট্যাক্সের টাকায় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক হয়’ বা ‘সরকারের অর্থে বিসিবি চলে’, এসব যে ধরনের কথা সামাজিক মাধ্যম বা ক্রিকেট আঙিনার বাইরে প্রচলতি আছে, সেগুলোর ব্যাখ্যা দেন ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
“অনেক সময় আমরা খারাপ খেললে অনেকে বলে যে, ‘ভাই, আপনারা ভালো খেলছেন না। আমরা আমাদের টাকাতেই তো আপনারা চলেন।’ জিনিসটা আসলে এরকম না। আমরা যে টাকাটা আয় করি, বেশির ভাগই আইসিসি এবং স্পন্সর থেকে টাকাটা আসে। আজকে ক্রিকেট বোর্ডের যে টাকাগুলো আছে, যারা জাতীয় দলের প্রথম থেকে এখনও পর্যন্ত প্রতিনিধিত্ব করেছে, বাংলাদেশের জার্সি পরে একটা ম্যাচ খেলেছে, তাদেরও এখানে একটা অংশ আছে।”
“আমার কাছে মনে হয়, উনি (এম নাজমুল ইসলাম) যে মন্তব্যটা করেছেন, আমি জানি না উনি কীভাবে করেছেন, বুঝে করেছেন নাকি না বুঝে করেছেন। আমার কাছে এটার কোনো ব্যাখ্যা নাই। তিনি এটা ভালো জানেন। আমার কাছে মনে হয় যে, তার পজিশনের থেকে এরকম মন্তব্য করাটা আসলে ঠিক না। শুধু এক ক্রিকেট অঙ্গন নয়, যে কোনো জায়গায় একটা দায়িত্বরত অবস্থায় থাকে এরকম মন্তব্য করা উচিত না।”
নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগের কোনো সুরাহা না হওয়া ও তদন্ত কাজের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে আক্ষেপ ও হতাশার কথা তুলে ধরেন টেস্ট অধিনায়ক ও কোয়াবের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজমুল হোসেন শান্ত। নারী ক্রিকেটারদের অনুশীলন সুযোগ-সুবিধার বাজে অবস্থার দিকটি তুলে ধরেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস।
এবারের বিপিএল থেকে ৯ ক্রিকেটাকে দূরে রাখার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সদ্য অবসরে যাওয়া ক্রিকেটার শামসুর রহমান শুভ।
“অনেকদিন ধরেই আমরা জানি যে, ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে কিছু ইস্যু হয়েছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই কিছু ক্রিকেটারকে আমরা এই বিপিএলে দেখতে পারিনি। এটা খুবই দুঃখজনক। কোয়াবের পক্ষ থেকে আমরা এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। দুর্নীতির ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের জিরো টলারেন্স থাকবে। কিন্তু আপনাকে তো প্রমাণ দিতে হবে যে, আসলে তারা কোন কারণে দোষী হয়েছে।”
“সেই সঠিক নিয়মটা এবং সঠিক প্রমাণটা কিন্তু এখন পর্যন্ত জনগণের সামনে বা আপনাদেরকে বা আমাদেরকে বা কারও কাছেই তারা দেয়নি। যদি আসলেই কিছু থাকে, তাহলে আপনারা এটা জনসম্মুখে আনেন।”
কোয়াব সভাপতি মিঠুন বলেন, বিসিবি সভাপতি এম নাজমুল ইসলাম গোটা ক্রিকেটাঙ্গনকে অপমান করেছেন।
“আমাদের সম্মানিত বোর্ড পরিচালক যে বিষয়টা নিয়ে এত কিছু মানে ক্রিকেটারদের আজকে আসলে একজন থেকে শুরু করে টোটাল ক্রিকেট জাতিকে যেভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছেন। জিনিসটা আসলে খুব দুঃখজনক। এটা ক্রিকেটারদের সম্মানের ব্যাপার। এটা শুধু ক্রিকেটার না, আসলে ক্রিকেটের সাথে সম্পর্কিত সবাইকেই আমি মনে করি অপমান করা হয়েছে।”