ফাইনালে উঠার স্বপ্ন নিয়েই এশিয়ান গেমসে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে যাচ্ছে-তাই পারফরম্যান্স আর একরাশ ব্যর্থতাকে সঙ্গী করেই দেশে ফিরছে লিটন দাসের দল। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ব্রোঞ্জের লড়াইয়েও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬৩ রানে হেরেছে টাইগাররা।
এই ব্যর্থতা প্রসঙ্গেই ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়েন বাংলাদেশ অধিনায়ক। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়েও জড়িয়ে পড়েন। একটা সময়ে পদত্যাগের প্রসঙ্গ উঠলে শুরুতে শান্তভাবেই জবাব দেন। লিটন বলেন, ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকেই, তাই এক-দুটি খারাপ ম্যাচের পর পদত্যাগের প্রশ্ন আসে না।
তার ভাষায়, ‘না, রিজাইন করতে চাই না। ক্রিকেটে আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকে। একদিন ভালো হবে, একদিন খারাপ হবে। এখানে রিজাইনের তো কিছু নেই।’
তবে দলের পারফরম্যান্স, ক্রিকেটারদের দায়বদ্ধতা এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক সাংবাদিক বলেন, অনেক দূর থেকে সাংবাদিকেরা দলকে অনুসরণ করছেন এবং এমন পারফরম্যান্সে দেশের মানুষ কষ্ট পেয়েছেন।
জবাবে লিটন বলেন, ‘আপনি অলরেডি লেখার জন্য অনেক কিছু বলে দিয়েছেন। নিজে নিজে লিখে দিয়েন, সমস্যা নেই।’
এরপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘একটা দেশ কি আপনার কাছে এত ছোট?’
প্রশ্নের জবাবে কিছুটা বিরক্ত হয়ে লিটন বলেন, ‘আমি কী করব তাহলে? আমি কী করব? আচ্ছা, কী করব বলেন?’
পদত্যাগের প্রসঙ্গ আবার উঠলে তিনি বলেন, ‘পদত্যাগ করে দিব? আচ্ছা, এশিয়ান গেমস থেকে পদত্যাগ করলাম। দয়া করে পরের প্রশ্ন।’
তবে দলের ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে যাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি স্বীকার করেন, ব্যাটিং-বোলিং—কোনো বিভাগেই প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি বাংলাদেশ।
লিটনের মতে, ম্যাচের প্রথম ৮ ওভার পর্যন্ত ভালো বোলিং করেছিল বাংলাদেশ। এরপর থারিন্দু রাত্নায়েকের বিধ্বংসী ব্যাটিং ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়।
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে প্রথম ৮ ওভার খুবই ভালো বোলিং করেছি। এরপর একজন ব্যাটার এসে যে রকম শট খেলেছে এই উইকেটে, খুবই কঠিন। সে অসাধারণ ব্যাটিং করায় আমাদের বোলাররা কোনো পথ খুঁজে পায়নি কীভাবে ফিরে আসবে। তাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।’
ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে লিটন বলেন, ‘আমরা যখন ব্যাটিংয়ে গিয়েছি, কোনোভাবেই ওটা সামাল দিতে পারিনি। ব্যাটিংয়ে আমরা আজ প্রত্যাশিত মানে ছিলাম না।’
এশিয়ান গেমসের গত তিন আসরেই পুরুষ ক্রিকেট থেকে অন্তত একটি পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সেই ধারাবাহিকতাও থেমে গেল।
এ প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘ব্রোঞ্জ জিততে না পারায় খারাপ লাগছে। এখানে ফাইনালের লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম। সেটা যখন হয়নি, তারপর আরেকটা সুযোগ ছিল। সেই সুযোগটাও আমরা হাতছাড়া করেছি।’