Image description
আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন এক পরীক্ষার সামনে বাংলাদেশ। ফিফা আসিয়ান কাপে আজ নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে টমাস ডুলির দল। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় শুরু হবে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচটি। প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। ম্যাচের আগে হামজা চৌধুরীর কথাতেও ফুটে উঠেছে সেই বার্তা, ‘এখানে আমরা কাউকে ভয় পেতে আসিনি।’
 
তবে বাস্তবতা বাংলাদেশের জন্য কঠিন। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া ১৩৬ নম্বরে, বাংলাদেশ ১৮১। দুদলের ব্যবধান ৪৫ ধাপ। মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানও খুব একটা স্বস্তি দিচ্ছে না। এখন পর্যন্ত আটবার মুখোমুখি হয়েছে দুদল। 

 
বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র একবার মালয়েশিয়ার জয় পাঁচটি। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র। সবশেষ ২০২২ সালের ১৪ জুন এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। সেবার ৪-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১২ ও ২০১৫ সালের দুটি প্রীতি ম্যাচ ড্র হয়েছিল। বাংলাদেশের একমাত্র জয়টি এসেছিল ১৯৮২ সালের এশিয়ান গেমসে। সেবার মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল লাল-সবুজরা। 
 
পরিসংখ্যান ও র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলি। টুর্নামেন্টে নিজেদের আন্ডারডগ হিসেবে দেখছেন। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে লড়াইটিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডুলি, ‘যখন আপনি মাঠে নামেন, আপনি আপনার সর্বোচ্চটা দিতে চান। কিন্তু আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমি জানি বাংলাদেশের অনেক ভক্ত ভাবেন যে আমরা এখানে এসে সবাইকে হারিয়ে দেব। কিন্তু এটা অনেক কঠিন। র‌্যাঙ্কিংয়ে মালয়েশিয়া আমাদের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ পয়েন্ট এগিয়ে। এটি বেশ বড় ব্যবধান।’
 
তবে র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকলেও লড়াই ছাড়ার মানসিকতা নেই বাংলাদেশের। ডুলির মতে, ‘বড় দলের বিপক্ষে ভালো ফল পাওয়ার জন্য নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে হবে। মালয়েশিয়াও বাংলাদেশের বিপক্ষে হারতে চাইবে না। তাই ম্যাচটি কঠিন হলেও নিজেদের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।’
 
বাংলাদেশের মাঝমাঠের সবচেয়ে বড় শক্তি হামজা চৌধুরী। প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এমন বার্তাই দিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। তার উপস্থিতি বাংলাদেশের মাঝমাঠে বল দখল, প্রতিরোধ এবং দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। হামজার সঙ্গে জামাল ভূঁইয়া ও শামিত সোমদের ওপরও থাকবে বড় দায়িত্ব। মালয়েশিয়ার শারীরিক শক্তি ও গতির বিপরীতে মাঝমাঠে লড়াই ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশের জন্য আক্রমণে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে।
 
অন্যদিকে মালয়েশিয়ার আক্রমণভাগের অন্যতম বড় হুমকি আরিফ আইমান। ২৪ বছর বয়সি এই উইঙ্গার জহোর দারুল তাজিমের হয়ে ঘরোয়া ফুটবলের পাশাপাশি এশিয়ান প্রতিযোগিতায়ও নিয়মিত আলো ছড়িয়েছেন। গতি, ড্রিবলিং ও ক্রসিংয়ের দক্ষতা দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে সমস্যা তৈরি করতে পারেন তিনি। বিশেষ করে বাংলাদেশের বাম দিকের রক্ষণে আরিফের গতি সামলানো বড় পরীক্ষা হতে পারে।
 
 
 
মালয়েশিয়ার আক্রমণভাগে আরেক বড় ভরসা ব্রাজিলীয় বংশোদ্ভূত জাত স্ট্রাইকার বার্গসন। বক্সের ভেতর ফিনিশিংয়ে দক্ষ এই ফরোয়ার্ড সামান্য সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেন। কাউন্টার অ্যাটাক কিংবা সেট-পিস— দুই ক্ষেত্রেই তার উপস্থিতি বাংলাদেশের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা। তাকে সামলানোর দায়িত্ব থাকবে বাংলাদেশের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের ওপর।
 
বাংলাদেশকে সমীহ করলেও নিজেদের লক্ষ্য নিয়েও পরিষ্কার মালয়েশিয়া। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ তান চেং হো জানিয়েছেন, আপাতত তাদের পুরো মনোযোগ বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ সবসময় কঠিন, এমনটা উল্লেখ করে তিনি খেলোয়াড়দের শুরুটা ভালো করার তাগিদ দিয়েছেন। ফাইনালে যাওয়ার যে লক্ষ্য ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, সেটিকেও অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে আসর শুরু করতে চায় হারিমাউ মালায়ারা।
 
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু মালয়েশিয়ার আক্রমণ ঠেকানো নয়, পুরো ৯০ মিনিট নিজেদের পরিকল্পনায় স্থির থাকা। বড় দলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের রক্ষণাত্মক ভুল কিংবা ফিটনেসের ঘাটতি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই শুরুতে চাপ সামলে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ খুঁজে নেওয়াই হতে পারে ডুলির দলের অন্যতম কৌশল।
 
র‍্যাঙ্কিং, হেড টু হেড লড়াই আর শক্তিমত্তা সব হিসাবই কঠিন পরীক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে বাংলাদেশের জন্য। তবে ফুটবলে মাঠের ৯০ মিনিটেই শেষ হয় সব হিসাব। হামজার নেতৃত্বে মাঝমাঠের লড়াই, আক্রমণে সুযোগ কাজে লাগানো এবং রক্ষণে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারলে নিজেদের চেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও ভালো ফলের সুযোগ তৈরি করতে পারে বাংলাদেশ। সেই চমকের অপেক্ষাতেই আজ জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে চোখ থাকবে লাল-সবুজ সমর্থকদের।