দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চলতি মাসের ৮ আগস্ট না-ফেরার দেশে চলে যান লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বাবাকে হারিয়ে একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন। বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন ইন্টার মায়ামি তারকা। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের সূত্রেই জানা যায়, বাবার প্রয়াণের পর ফুটবল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি নিয়েছেন মেসি। রয়টার্স-এর প্রতিবেদন।
কিন্তু আবেগ সামলে দ্রুত মাঠে ফেরেন লিওনেল মেসি। আজ বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর প্রথম গোলের দেখাও পেয়ে গেলেন এলএম টেন। বাবাকে হারানোর পর এটি ছিল মেসির তৃতীয় ম্যাচ। আজ সকালে চেস্টারের সুবারু পার্কে স্বাগতিক ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে মায়ামির ২–২ গোলের ড্রয়ে প্রথমার্ধেই চোখধাঁধানো গোলটি করেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
ম্যাচের বয়স তখন ২৬ মিনিট। দুই দল তখন ১–১ গোলের সমতায় ছিল। ডান প্রান্তে পাস পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটান মেসি। এরপর জটলার ভেতর থেকে কোনাকুনি শটে গোল করেন। ক্যারিয়ারে এর আগে করা ৯২০টি গোলের চেয়ে এ গোলের আবেদন তার কাছে অবশ্যই অন্য রকম।
গোলের পর আর পাঁচটা দিনের মতো উচ্ছ্বাসে মাতলেন না লিওনেল মেসি। সতীর্থদের জড়িয়ে ধরে দু’হাত তুলে তাকালেন আকাশের দিকে। এরপর আবেগ সামলাতে পারেননি এলএম টেন। চোখেমুখেও ধরা পড়ল সেই মুহূর্তের ভার। সতীর্থেরা এগিয়ে এসে সামলালেন তাকে। সেই গোল বাবাকেই উৎসর্গ করলেন আর্জেন্টিনা ও ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক। সেই মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল।
৬৮ বছর বয়সে রোজারিওয় মারা যান মেসির বাবা। বাবার শেষকৃত্যের জন্য পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিমানে আর্জেন্টিনায় ফিরেছিলেন মেসি। তারপর দ্রুতই মাঠে ফেরেন। তবে প্রত্যাবর্তনের পর প্রথম দু’টি ম্যাচে গোল পাননি তিনি। ফিলাডেলফিয়ার বিপক্ষে সেই অপেক্ষার অবসান হল। এর আগে ২১ মিনিটে মায়ামির প্রথম গোলেও বড় ভূমিকা ছিল মেসির। তার ক্রস লুইস সুয়ারেজের মাথা ছুঁয়ে চলে যায় ড্যানিয়েল পিন্টারের কাছে। গোল করতে ভুল করেননি তিনি।
ম্যাচের শুরুতে ১১ মিনিটে ইন্ডিয়ানা ভ্যাসিলেভের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ফিলাডেলফিয়া। মেসির গোলে মায়ামি এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে নিল পিয়েরের গোলে সমতা ফেরায় ফিলাডেলফিয়া। ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয়ের মুখ দেখল না মায়ামি। এই গোলের সঙ্গে আরও একটি মাইলফলক ছুঁলেন মেসি। এমএলএসে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৭০। চলতি মৌসুমে লিগে ১৭ ম্যাচে করেছেন ১৩ গোল। সোনার বুটের দৌড়েও রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে।
ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে মেসির মোট গোলসংখ্যা এখন ৯২২। ১০০০ গোলের মাইলফলক থেকে দূরে মাত্র ৭৮ গোল। সেই দৌড়ে অবশ্য এখনও অনেকটা এগিয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ মহাতারকার গোলসংখ্যা ৯৭৬। অর্থাৎ হাজারে পৌঁছতে তার প্রয়োজন আর ২৪ গোল। রোনালদো ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি মৌসুমই হয়তো তার শেষ। অন্যদিকে মেসি কবে অবসর নেবেন, তা এখনও জানাননি। জল্পনা রয়েছে, ২০২৭ সালের কোপা আমেরিকা পর্যন্ত খেলতে পারেন তিনি। সেক্ষেত্রে মেসির সামনে এখনও সময় রয়েছে। হাজার গোলের স্বপ্নও তাই ‘অবাস্তব’ নয় ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকার কাছে।