Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আগামী জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে পারে সম্ভাব্য সমাবর্তন। এতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেছেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ মর্যাদা প্রদান, বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

GeographicReference

 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক, সিন্ডিকেট সদস্য ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষাৎকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ২০ বছর মেয়াদি একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিকও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদারে গৃহীত পদক্ষেপ, অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। 

ExecutiveBranch

 

সাক্ষাৎকালে উপাচার্য মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় অবদানের কথা তুলে ধরেন। এসব ঐতিহাসিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ মর্যাদা প্রদানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ফান্ড বৃদ্ধি, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন উপাচার্য। শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং আধুনিক ও উদীয়মান বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে সরকারের সহযোগিতাও চান তিনি।

বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, জীববিজ্ঞান, জীবপ্রযুক্তি ও তৃতীয় ভাষাসহ আধুনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।

উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

উপাচার্যের বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিশেষ মর্যাদা প্রদান এবং শিক্ষা ও গবেষণার সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’ 

GeographicReference

 

এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের সহযোগিতা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাৎকালের একপর্যায়ে উপাচার্য আগামী জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় সম্ভাব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্মতি জ্ঞাপন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি মমত্ববোধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সব ক্ষেত্রে আন্তরিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।