চোটটি শুরুতে খুব গুরুতর মনে হয়নি। প্রথম স্ক্যানে ধরা পড়েছিল গ্রেড-১ মাত্রার পেশির চোট, যা থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই সেরে ওঠার কথা ছিল লিটন দাসের। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ব্যথা না কমায় একাধিকবার স্ক্যান করাতে হয়েছে তাকে। তাতেও নতুন কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। ফলে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসের চোঁট নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়ছেই।
ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে বাঁ পায়ের কাফের মাংসপেশিতে চোট পেয়েছিলেন লিটন। সেই চোটের কারণে শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট থেকেও ছিটকে গেছেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
লিটনের চোটের শুরুটা ব্যাখ্যা করে বাশার বলেন, ‘প্রথমে কাফের মাংসপেশিতে চোট ধরা পড়েছিল। পরে আরেকটি স্ক্যান করানো হলে সেখানে গ্রেড-১ টিয়ার পাওয়া যায়। এ ধরনের চোটে সাধারণত তিন সপ্তাহের বেশি সময় লাগার কথা নয়।’
তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও লিটনের অস্বস্তি দূর হয়নি। অথচ পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও নতুন কোনো চোটের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বাশারের ভাষায়, ‘তিন সপ্তাহের সময়টা জুনেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কোনোভাবে লিটনের ব্যথাটা যাচ্ছিল না। পরে আবার স্ক্যান করা হলেও নতুন কিছু ধরা পড়েনি।’
লিটনের সুস্থ হয়ে উঠতে দেরি হওয়ায় বিসিবির চিকিৎসা বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে স্ক্যানের প্রতিবেদনে নতুন কিছু না থাকায় চিকিৎসকদের সরাসরি দায়ী করতে রাজি নন প্রধান নির্বাচক।
তিনি বলেন, ‘এটার জন্য মেডিকেল বিভাগকে দোষ দেওয়া কঠিন। স্ক্যানে তো তারা কিছু পায়নি। তারা প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত দেয়। বারবার স্ক্যান করেও পরবর্তী কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি।’
শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে সিঙ্গাপুরে যান লিটন। বাশারের দাবি, সেখানকার পরীক্ষায় কোনো পেশি ছিঁড়ে যাওয়ার চোট পাওয়া যায়নি, তবে ফোলা ছিল।
বাশার বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে করা স্ক্যানে ফোলা ধরা পড়েছে, কিন্তু কোনো টিয়ার নেই। এখন হয়তো সে ঠিক আছে। তবে তাকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মাঠে ফিরতে হবে।’
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেওয়ার পর লিটনকে আবার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ফেরানো হচ্ছে। আগামী ১৩ আগস্টের কাছাকাছি সময়ে তার ফিটনেস পরীক্ষা হওয়ার কথা। সেখানে সন্তোষজনক ফল করলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে তাকে বিবেচনা করা হতে পারে।