Image description

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ১২ দলীয় জোটে বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র অসন্তোষ চলছে। এর জেরে দুই শরিককে জোট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। দল দুটি হলো— প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল (পিএনপি) এবং বাংলাদেশ এলডিপি।

অভিযোগ— একটি দল স্বৈরাচারের দোসর ছিল। অন্য দলটির এক নেতা মানব পাচার ও চাঁদাবাজিতে জড়িত। এ নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার কিংবা আগামী বুধবার ১২ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসবে।

জোট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দল দুটির বক্তব্য সন্তোষজনক হলে, তারা যথারীতি জোটে বহাল থাকবে। অন্যথায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে জোট থেকে অব্যাহিত দেওয়া হবে।

১২ দলীয় জোট প্রধান ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘পিএনপি এবং বাংলাদেশ এলডিপির বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উঠেছে। শিগগিরই ১২ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তাদের জবাব সন্তোষজনক হলে ভালো, অন্যথায় তখন পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’

১২ দলীয় জোটে বর্তমানে ১০টি দল রয়েছে। সেগুলো হলো— জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ন্যাশনাল লেবার পার্টি, ইউনাইটেড লিবারেল পার্টি, বাংলাদেশ এলডিপি, ইসলামিক পার্টি, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি-পিএনপি ও নয়া গণতান্ত্রিক পার্টি।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আন্দোলনরত ১২ দলীয় জোট থেকে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) বের হয়ে যায়। নির্বাচনের পর প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি-পিএনপিকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অন্যদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেন বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন এবং বিজয়ী হন। পরে দলটির আগের কমিটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এম এ বাশার বাংলাদেশ এলডিপিকে পুনরুজ্জীবিত করেন এবং দলটির নতুন চেয়ারম্যান হন। এরপর দলটিকে ১২ দলীয় জোটভুক্ত করা হয়।

যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মান ভাঙাতে গত ২০ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও নৈশভোজ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই অনুষ্ঠান সামনে রেখে বিএনপির চাওয়া অনুযায়ী, প্রতিটি দল থেকে পাঁচজন করে নেতার নামের তালিকা জমা দেয় শরিকরা। বাংলাদেশ এলডিপি যুগ্ম মহাসচিব কামাল প্রধানসহ পাঁচজনের নামের তালিকা পাঠায়। কামাল প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা করা, জাল দলিল তৈরি, ভূমিদস্যু, মানব পাচারকারী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে চরিত্রহনন করা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে অনেক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। এমন একজনের নাম প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের তালিকায় থাকায় দারুণ সমালোচনা তৈরি হয়। জানা যায়, পরে কামাল প্রধানকে বাদ দিয়েই বাংলাদেশ এলডিপির বাকি চারজন প্রধানমন্ত্রীর ওই নৈশভোজ অনুষ্ঠানে যান।

অন্যদিকে ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংলাপে অংশগ্রহণ করেছিল পিএনপি। সে কারণে দলটিকে স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করছেন অনেকে।

এ বিষয়ে পিএনপির চেয়ারম্যান ফিরোজ মো. লিটন আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমি সে সময় শেখ হাসিনার সংলাপে অংশ নিয়েছিলাম। অন্য দলও সেখানে গিয়েছিল। এটাতে তো আমি আওয়ামী লীগ হয়ে যাইনি।’