বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার রদ্রি যেন নিজের ক্যারিয়ারের পূর্ণ বৃত্তটাই সম্পন্ন করলেন। দুই বছর আগে হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে। সেই কঠিন সময়কে তিনি নিজেই বলছেন ‘নরক’। আর সেই নরক পেরিয়েই এখন তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, সঙ্গে জিতেছেন ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি—গোল্ডেন বল।
রোববার (১৯ জুলাই) নিউইয়র্ক–নিউজার্সি স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। পুরো টুর্নামেন্টে দলের প্রাণভোমরা ছিলেন রদ্রি। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ফিফা তাকে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করে।
পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় রদ্রি বলেন, ‘এটা যেন নিখুঁত একটি চিত্রনাট্য। আমি কখনো ভাবিনি এমন কিছু হবে।’
এরপর নিজের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি চাই নতুন প্রজন্ম দেখুক, একজন খেলোয়াড় আকাশ ছুঁয়ে আবার নরকে নেমে যেতে পারে; কিন্তু সেখান থেকে আবারও ফিরে আসা সম্ভব। এটি প্রতিকূলতাকে জয় করার শিক্ষা।’
মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ভয়াবহ চোট থেকে ফিরে এসে বিশ্বকাপ ও গোল্ডেন বল জয়ের মাধ্যমে রদ্রি ফুটবল ইতিহাসেও নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করেছেন। এর আগে ইউরো, উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ব্যালন ডি'অরও জিতেছেন তিনি। ফলে বেকেনবাওয়ার, গার্ড মুলার ও জিনেদিন জিদানের পর চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ, ইউরো, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ব্যালন ডি'অর—এই চারটি মর্যাদাপূর্ণ সাফল্য অর্জন করলেন স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার।
ফাইনালের পর সতীর্থদের ভূয়সী প্রশংসা করেন রদ্রি। তার ভাষায়, ‘এই দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য। আমরা কখনো হাল ছাড়িনি। শেষ পর্যন্ত আমাদের সাহসেরই পুরস্কার মিলেছে।’
আর্জেন্টিনার প্রশংসাও করেন তিনি। ‘ওরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ছিল এবং তাদের সঙ্গে খুব কঠিন। তবে আমার বিশ্বাস, আমরা ভালো খেলেছি এবং শেষ পর্যন্ত ন্যায্যভাবেই জিতেছি।’
কালবেলা