ছোটবেলায় দোকানে গিয়ে পাম্পার দিয়ে চামড়ার বলে হাওয়া দেওয়ার স্মৃতি নিশ্চয়ই অনেকের আছে। তবে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পৃথিবী এখন যেখানে পৌঁছে গেছে, তাতে হাওয়া নয়, বরং চার্জ দেওয়া ফুটবল দিয়েই মাঠে গড়াবে এবারের বিশ্বকাপ! শুনতে অবাক লাগলেও এটিই এখন বাস্তবতা। ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’ (Trionda) ফুটবল বিশ্বে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। এই বলেই লাথি দিয়ে জাদুকরী সব মুহূর্তের জন্ম দেবেন লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও কিলিয়ান এমবাপ্পেরা।
স্প্যানিশ শব্দ ‘ট্রাইওন্ডা’র বাংলা অর্থ ‘তিন ঢেউ’ বা তিন তরঙ্গ। বিশ্বকাপের তিন যৌথ আয়োজক- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকে ধারণ করেই মূলত এই নামকরণ। বলের নকশাতেও রয়েছে এই তিন দেশের সংস্কৃতির মেলবন্ধন।
-
রঙের ব্যবহার: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতীকী নীল, কানাডার লাল এবং মেক্সিকোর সবুজ রং ব্যবহার করা হয়েছে বলটিতে। এছাড়া পুরো নকশায় থাকা সোনালি রং মনে করিয়ে দেয় পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফিকে।
-
প্রতীক: বলের গায়ে খোদাই করা হয়েছে কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ইগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারকা প্রতীক।
বাইরে থেকে চামড়া আর সুতো দিয়ে বানানো সাধারণ গোলাকৃতির বল মনে হলেও, এর ভেতরটায় আস্ত এক প্রযুক্তির দুনিয়া তৈরি করেছে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ফুটবল মাঠে শতভাগ স্বচ্ছতা আনতেই এই প্রযুক্তির শরণাপন্ন হওয়া।
-
হাই-টেক সেন্সর: বলের ঠিক কেন্দ্রে বসানো হয়েছে ১৪ গ্রামের এক বিশেষ মোশনের সেন্সর চিপ। ৫০০ হার্টজের এই সেন্সরটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য বা ডেটা রেকর্ড করতে সক্ষম।
-
রিয়েল টাইম ট্র্যাকিং: ফুটবলারদের নিখুঁত থেকে নিখুঁততম স্পর্শও রিয়েল টাইমে চলে যাবে ম্যাচ অফিশিয়ালদের কাছে। এর ফলে অফসাইড বা হ্যান্ডবলের মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো মুহূর্তেই নিখুঁতভাবে ধরা পড়বে।
-
ব্যাটারি লাইফ: প্রযুক্তিগত সুবিধার জন্য বলটিকে চার্জ দিতে হবে। একবার পুরো চার্জ দিলে টানা ছয় ঘণ্টা সচল থাকবে এই বল, যা একটি ম্যাচের জন্য যথেষ্ট।
অ্যাডিডাসের মহাব্যবস্থাপক স্যাম হ্যান্ডি ‘ট্রাইওন্ডা’র বিশেষত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘প্রতিটি ছোট জিনিসেরই বড় প্রভাব আছে। খোদাই করা নকশা, স্তরযুক্ত গ্রাফিকস এবং উজ্জ্বল রং এই বলকে অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা করেছে। এখন পর্যন্ত এটাই আমাদের তৈরি করা সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ফিফা বিশ্বকাপের বল।’
উল্লেখ্য, এ নিয়ে মোট ১৫ বার ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল বল তৈরি করল অ্যাডিডাস। ১৯৭০ মেক্সিকো বিশ্বকাপের বিখ্যাত ‘টেলস্টার’ বল দিয়ে ফিফার সঙ্গে জার্মান এই কোম্পানিটির যে পথচলা শুরু হয়েছিল, তার আধুনিকতম সংস্করণ হিসেবে এবার মাঠ কাঁপাবে এই চার্জযুক্ত ফুটবল।