Image description

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগুন ঝরানো বোলিংয়ের পর নাহিদ রানাকে নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নেই। মিরপুরে ৪ উইকেটের স্পেলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ভেঙে দেওয়ার পর বাংলাদেশের এই গতিময় পেসারকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। সেই আলোচনায় উঠে এসেছে আইপিএলও।

 

মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৪১ রানে ৪ উইকেট নেন নাহিদ। তাঁর গতি, বাউন্স ও আগ্রাসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানরা অস্বস্তিতে পড়েন। বাংলাদেশ ম্যাচটি জেতে ৮৬ রানে, ডিএলএস পদ্ধতিতে। ২০০৫ সালের কার্ডিফের পর ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়।

 

ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারিও নাহিদের প্রশংসা করেন। তাঁর কথায়, নাহিদকে ম্যাচের বাইরে রাখতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ক্যারি স্বীকার করেন, তাঁরা নাহিদের গতি সম্পর্কে জানতেন, কিন্তু মাঠে সরাসরি সেই গতি ও বাউন্স সামলানো আলাদা চ্যালেঞ্জ।

 

নাহিদের এই পারফরম্যান্সের পর মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশ তাঁকে আইপিএলে দেখতে চাওয়ার কথা লিখেছেন। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, আইপিএল যদি বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সুযোগ দেয়, তাহলে আগামী মৌসুমে নাহিদ রানার আইপিএলে খেলা উচিত।

আরেকজন সরাসরি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর প্রসঙ্গ টেনে লিখেছেন, আইপিএল চ্যাম্পিয়ন আরসিবিতে নাহিদ রানাকে দরকার।

 

শুধু নয়, কলকাতা নাইট রাইডার্সের সমর্থক অ্যাকাউন্ট থেকেও নাহিদকে নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে। সেখানে লেখা হয়েছে, বিসিসিআই যদি আগামী মৌসুমে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সুযোগ দেয়, তাহলে নাহিদের আইপিএল চুক্তি পাওয়া অবাক করার মতো কিছু হবে না। আরেকজন আবার লিখেছেন, বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের বিষয়ে বাধা সরলে তিনি নাহিদকে আইপিএলে দেখতে চান।

এই প্রতিক্রিয়াগুলো ছোট ছোট এক্স পোস্ট হলেও একটি বড় বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। নাহিদের গতির প্রতি আগ্রহ এখন সীমান্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে। উপমহাদেশের একজন পেসার যখন নিয়মিত ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে পারেন, বাউন্স তুলতে পারেন এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলেন, তখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আলোচনায় তাঁর নাম আসা অস্বাভাবিক নয়।

 

আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে গতিময় পেসারদের চাহিদা সব সময়ই থাকে। নতুন বলে আগ্রাসন, মাঝের ওভারে হার্ড লেংথ, শর্ট বলের হুমকি, আর ডেথ ওভারে গতি—এসব গুণ ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলোর কাছে মূল্যবান। নাহিদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর উচ্চতা, রিলিজ পয়েন্ট এবং গতি। এগুলো ব্যাটসম্যানকে শুধু পরাস্তই করে না, মানসিক চাপও তৈরি করে।

নাহিদের আইপিএল-আলোচনা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ২০২৬ আইপিএল নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম ছিল। ভিত্তিমূল্য ছিল ৭৫ লাখ রুপি। তবে সেবার কোনো দল তাঁকে নেয়নি। তখন হয়তো তাঁর আন্তর্জাতিক প্রোফাইল এতটা বড় ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন ম্যাচজয়ী স্পেলের পর সেই মূল্যায়ন বদলাতে পারে।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আইপিএলে সুযোগ পাওয়া দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মিত। সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, লিটন দাসদের মতো কয়েকজন খেলেছেন, কিন্তু ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দেখা যায়নি। এর পেছনে শুধু পারফরম্যান্স নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রয়োজন, নিলাম কৌশল, রাজনীতি, জাতীয় দলের ব্যস্ততা, অনাপত্তিপত্র এবং পুরো মৌসুমে খেলোয়াড়ের প্রাপ্যতার মতো বিষয়ও ভূমিকা রাখে।

 

তবে নাহিদের ক্ষেত্রে আলোচনা আলাদা। কারণ বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন গতির পেসার খুব বেশি আসেনি। নাহিদ শুধু দ্রুত বল করেন না, তাঁর বল ব্যাটসম্যানের শরীরে উঠে আসে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেটিই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে। ক্রিকেটমাধ্যমগুলোর পাশাপাশি সাধারণ সমর্থকেরাও এখন তাঁকে ভবিষ্যতের বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি সম্ভাবনা হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।