Image description

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচ ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে লস অ্যাঞ্জেলেস প্রশাসন। গ্রুপ পর্বে ইরানের তিন ম্যাচের দুটি হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে। সম্ভাব্য বিক্ষোভ, ভেন্যুর আশপাশের পরিস্থিতি এবং ফ্যান জোনের নিরাপত্তা বিবেচনায় ইরানের ম্যাচগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হবে।

 

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ রবার্ট লুনা সোমবার বিশ্বকাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে জানান, ইরানের ম্যাচগুলো আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ইরানকে ঘিরে ভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা বাস্তবতা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

ইরান ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। একই শহরে ২১ জুন তাদের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে ইরান।

 

লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের ম্যাচ নিয়ে বাড়তি নজরদারির আরেকটি কারণ শহরটির জনমিতি। ইরানের বাইরে সবচেয়ে বড় ইরানি জনগোষ্ঠীর একটি বসবাস করে এই অঞ্চলে। ফলে ম্যাচকে ঘিরে সমর্থকদের বড় উপস্থিতির পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা, প্রতিবাদ বা পাল্টা প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখছে স্থানীয় প্রশাসন।

 

ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে ইরান। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত ও কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণে টুর্নামেন্টের আগে ইরান দলের ভ্রমণ, নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইরান দল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার বদলে মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিহুয়ানায় বেস ক্যাম্প করার অনুমোদন পেয়েছে।

 

তবে লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাচগুলো ঘিরে আরেকটি আলোচিত বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংস্থা আইসিইর উপস্থিতি। স্টেডিয়াম কর্মীদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, বিশ্বকাপ চলাকালে অভিবাসন অভিযান চালানো হতে পারে। এ নিয়ে প্রতিবাদও হয়।

 

শেরিফ লুনার দাবি, ফেডারেল কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন, লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপ ম্যাচ বা সংশ্লিষ্ট আয়োজনে নাগরিক অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান চালানো হবে না। নিরাপত্তার জন্য ফেডারেল এজেন্টরা থাকবেন, তবে সেটি অভিবাসন ধরপাকড়ের উদ্দেশ্যে নয়।

 

লুনা অবশ্য বলেছেন, পরিস্থিতি বদলাতে পারে। তবে তার মতে, বিশ্বকাপ চলাকালে অভিবাসন অভিযান শুরু হলে নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি হবে।

 

বিশ্বকাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় ড্রোন নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভেন্যুর আশপাশে অস্থায়ী উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এফবিআই জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে ড্রোন নিরাপদ স্থানে নামিয়ে আনার সক্ষমতা থাকবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর।

 

সোফাই স্টেডিয়াম বিশ্বকাপে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম নামে পরিচিত হবে। এই ভেন্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচসহ মোট আটটি ম্যাচ হওয়ার কথা। তবে নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সবচেয়ে সংবেদনশীল ম্যাচগুলোর মধ্যে ইরানের ম্যাচগুলোই এখন বেশি আলোচনায়।