২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ আর মাত্র দেড় মাস দূরে। ফুটবল মহাযজ্ঞে এমন কিছু তরুণ ফুটবলার আছেন, যারা তৈরি আলো ছড়াতে। মাইকেল ওয়েন থেকে লিওনেল মেসি পর্যন্ত, বিশ্বমঞ্চে কুড়ি বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই চমক দেখানোর ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার মাটিতে সেই তালিকায় নতুন যাদের নাম যোগ হতে পারে, দেখে নেওয়া যাক।
লামিনে ইয়ামাল (স্পেন)
মাত্র ১৬ বছর বয়সে জর্জিয়ার বিপক্ষে অভিষেকে গোল করে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা এখনো থামেনি লামিনে ইয়ামালের। ইউরো ২০২৪-এ ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চেও করেছিলেন গোল।
লা লিগায় শততম ম্যাচের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মাত্র ১৮ বছর বয়সে, ভেঙেছেন রাউলের রেকর্ড। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার ঝুলিতে ২৩ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্ট। এ জন্যই ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার পরবর্তী ব্যালন ডি'অর জয়ীদের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে দেখছেন তাকে।
বিশ্বকাপে সাফল্য পেলে সেই পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবেন ইয়ামাল। তবে বুধবার হঠাৎ চোটে পড়ায় মৌসুম শেষ হয়ে যেতে পারে ইয়ামালের। বিশ্বকাপের আগে হয়তো ফিরবেন। তখন কতটা সফল হবেন, সময়ের অপেক্ষা সেটা।
পাউ কুবার্সি (স্পেন)
স্পেনের একাদশে ইয়ামালের পাশাপাশি চোখ রাখতে হবে বার্সার ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর। ২০২৫ সালের শেষ দিকে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ছয় ম্যাচের চারটিতেই শুরুর একাদশে ছিলেন পাউ কুবার্সি। ইউরো দলে না থাকা এই ১৯ বছর বয়সী সেন্টারব্যাক দুই বছরেরও বেশি সময় হ্যান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনার নিয়মিত মুখ। বিশ্বকাপে রিয়াল মাদ্রিদের ডিন হাউসেনের সঙ্গে কার্যকর জুটি গড়তে পারেন তিনি।
এস্তেভাও (ব্রাজিল)
ইয়ামালের পর বিশ্বকাপে যে কিশোরকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশা, তিনি চেলসির ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার এস্তেভাও। ইউরোপিয়ান ফুটবলে প্রথম মৌসুমেই কিছু অসাধারণ মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তিনি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল দলে চার ম্যাচে পাঁচ গোল করেছিলেন এস্তেভাও।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচে মাত্র ১৬ মিনিটেই হ্যামস্ট্রিং চোটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। চেলসি কোচ লিয়াম রোজেনিয়র জানান, হাফটাইমে কাঁদছিলেন। তবে আশার কথা হলো, ব্রাজিলিয়ান সাংবাদিক কাহে মোতার জানিয়েছেন, স্ক্যানে কোনো মাংসপেশির ছেঁড়া ধরা পড়েনি, আঘাত 'হালকা' প্রকৃতির। মাত্র ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই।
কেন্দ্রি পায়েজ (ইকুয়েডর)
এই বিশ্বকাপে যে তরুণদের সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের অন্যতম ইকুয়েডরের এই চেলসি মিডফিল্ডার। পায়েজ এখন ধারে খেলছেন রিভার প্লেটে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক অভিষেক, কয়েক সপ্তাহ পরই কনমেবল বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার কৃতিত্ব। ২০২৪ কোপা আমেরিকার পর থেকে মূলত বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ১৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন।
ইব্রাহিম এমবায়ে (সেনেগাল)
ফ্রান্সের হয়ে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে খেলেছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে সেনেগালের ডাকে সাড়া দেন পিএসজির এই ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয় ম্যাচেই গোল করে হন দেশটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা। এরপর আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া সেনেগাল দলে এক গোল ও দুই অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপ হবে তার দ্বিতীয় বড় টুর্নামেন্ট।
গিলবার্তো মোরা (মেক্সিকো)
২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই বিদায়ের পর সহ-আয়োজক মেক্সিকোর ওপর এবার চাপ বেশি। সেই ভার অনেকটাই চাপা পড়েছে এই ১৭ বছর বয়সীর কাঁধে, যাকে ডাকা হচ্ছে 'মেক্সিকান পেদ্রি' । ২০২৫ গোল্ড কাপে ক্লাব তিহুয়ানার এই তারুণ্য নকআউট পর্বেই প্রধান ভূমিকায় নেমে দলকে শিরোপা জেতাতে সাহায্য করেন ।
ইয়ামালের ১২ মাস পুরনো রেকর্ড ভেঙে হন যেকোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জয়ী সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। জানুয়ারি থেকে চোটের কারণে বিরতিতে রয়েছেন, তবে মেক্সিকোর ১১ জুনের উদ্বোধনী ম্যাচের আগেই সুস্থ হয়ে ফিরতে পারেন তিনি।
লুকা ভুসকোভিচ (ক্রোয়েশিয়া)
৪০ বছর বয়সী লুকা মদরিচের পঞ্চম বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা হবেই। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার নতুন প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল নামটি এখন টটেনহাম থেকে ধারে হামবুর্গে থাকা লুকা ভুসকোভিচ। মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বার্সেলোনার নজরও কেড়েছেন এই ১৯ বছর বয়সী সেন্টারব্যাক। সেট পিসে বিপজ্জনক, রক্ষণেও দৃঢ়। ইওশকো গাভার্দিওলের ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় ভুসকোভিচ শুরুর একাদশেও জায়গা পেতে পারেন।
লেনার্ট কার্ল (জার্মানি)
ইউরোর পর সৃজনশীলতায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে জার্মানিতে, সেটা পূরণ করতে পারেন তিনি। বায়ার্ন মিউনিখে এই মৌসুমে আট গোল ও ছয় অ্যাসিস্ট করেছেন লেনার্ট । মাইকেল ওলিসে ও লুইস দিয়াসের মতো ব্যালন ডি'অর দাবিদারদের সঙ্গে মিনিট ভাগ করেও দিয়ে যাচ্ছেন নিজের সেরাটা। গত নভেম্বরেই অনূর্ধ্ব-২১ দলে অভিষেক হয়েছে তার।
কিছুদিন আগে ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে তার গোলে জিতেছিল বায়ার্ন।
রদ্রিগো মোরা (পর্তুগাল)
২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগ ফাইনালে বিজয়ী পর্তুগালের স্কোয়াডে ছিলেন পোর্তোর এই প্লে-মেকার, যদিও বেঞ্চ থেকে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তার। সৌদি আরবের বিপুল অর্থের প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করা ১৮ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সেই অর্থে ব্রেকআউট মৌসুমের তেমন ভালো করতে পারেননি। তবে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য রবার্তো মার্তিনেজের দলে ফিরেছেন তিনি ।
নাথান ডি ক্যাট (বেলজিয়াম)
গত নভেম্বরে কাতারে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে খেলেছেন, আর কয়েক মাসের মধ্যেই হয়তো মূল বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেতে পারেন আন্ডারলেখটের এই মিডফিল্ডার। মূলত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হলেও সম্প্রতি ১০ নম্বর ভূমিকায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন তিনি।
বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ড তার দিকে নজর দিয়েছে। রুডি গার্সিয়ার বেলজিয়াম দলে জায়গা পেলে সেই মূল্য আরও বাড়তে পারে।