Image description

একসময় ভারতের অন্যতম প্রতিভাবান লেগ-স্পিনার হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও ক্যারিয়ারের শুরুতেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল সাবেক ক্রিকেটার লক্ষ্মণ শিবরামকৃষ্ণনকে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি তুলে ধরেছেন নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায়—যেখানে ছিল মিথ্যা অভিযোগ, ভেঙে পড়া মানসিকতা এবং একাকিত্বের লড়াই।

 

মাত্র ১৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তার নামের সঙ্গে জড়িয়ে যায় মাদক ও মদ্যপানের অভিযোগ। শিবরামকৃষ্ণন বলেন, ‘১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সে আমি ট্যুরে ছিলাম। তখন কীভাবে আমাকে হোটেলে মদ দেওয়া সম্ভব? আমি কখনোই মাদক নিইনি।’

 

তবে এসব অভিযোগই ধীরে ধীরে তার সামাজিক ভাবমূর্তি নষ্ট করে দেয়। তিনি জানান, তার বাবা-মা একসময় পত্রিকায় বিয়ের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।

 

‘দুই সপ্তাহ পর পোস্টবক্স খুলে দেখি একটিও আবেদন নেই। তখন বুঝেছিলাম, কেউই তাদের মেয়েকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিতে চায় না,’—বলেছেন তিনি।

ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘটনাটিও ছিল হতাশাজনক। ১৯৮৭ বিশ্বকাপের পর নির্বাচকরা তাকে গণমাধ্যমে ‘ফিটনেস সমস্যা’ দেখাতে বললেও তিনি তা অস্বীকার করেন। এরপরই জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়েন।

 

ক্রিকেট ছাড়ার পর ধারাভাষ্যে যুক্ত হলেও কোভিড সময়টা তার জীবনে নতুন সংকট তৈরি করে। তিনি জানান, গভীর বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং ঘুমানোর জন্য অ্যালকোহলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

 

‘আমি এতটাই ভেঙে পড়েছিলাম যে আয়নায় নিজের দিকে তাকাতেও চাইতাম না। মাঝে মাঝে মনে হতো আমি মারা যাচ্ছি,’—স্বীকার করেন শিবরামকৃষ্ণন।

 

এমনকি আত্মহানির চিন্তাও মাথায় এসেছিল বলে জানান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেকে সামলে নিতে পেরেছেন এই সাবেক ক্রিকেটার।

 

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস