ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধ শেষ হওয়ার নাম-নিশানা নেই, উল্টো আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে বিশ্ব। অথচ তিন মাস পরই মাঠে গড়াতে যাওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে তারাই প্রথম হামলা শুরু করে ইরানে। ফলে মার্কিন ভূমিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে অনড় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। তবে সূচি ও ভেন্যু পাল্টানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ফিফা।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি সহ-আয়োজক হিসেবে মেক্সিকো ও কানাডায় বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে গ্রুপপর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তখন থেকেই বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে ফিফার এই মেগা ইভেন্ট। সূচি অনুযায়ী– লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ইরানের।
ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী প্রথমে বলেছিলেন, তাদের ভূমিতে হামলা চালানো দেশে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা সম্ভব নয়। তখন তারা এই মেগা ইভেন্ট বয়কট করবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে পরবর্তীতে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদী তাজ এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে লেখেন, ‘যখন ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তিনি ইরানের জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন না, তখন আমরা অবশ্যই আমেরিকায় ভ্রমণ করব না। আমরা ইরানের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে আয়োজনের জন্য ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছি।’
এরপর বিশ্বকাপের প্রস্তুতি গ্রহণের তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি শুরু করছি। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বয়কট করব, তবে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াব না। জাতীয় দল তুরস্কে একটি ক্যাম্প করছে এবং আমরা এখানে দুইটি প্রীতি ম্যাচও খেলব।’ এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত যুক্তরাষ্ট্রকে রণাঙ্গনের পর ক্রীড়াঙ্গনেও ছাড় না দেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট হলো ইরানের।
অন্যদিকে, এই মুহূর্তে আর বিশ্বকাপের সূচি পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি জানান, ‘ইতোমধ্যে আমাদের সূচি দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই সে অনুসারেই ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হোক।’ এর আগে গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওয়াশিংটনে। সূচি ঘোষণার ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইরানের প্রতিনিধি দলের সবাই ভিসা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৯৫০ সালের পর কোনো দল বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপ বয়কটের নজির নেই। কেবল ওই বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ১৩টি দেশ। ফলে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরানের খেলায় বিঘ্ন ঘটা কিংবা নির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন হলে সেটিও হবে আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম নজির। যদিও ফুটবলের শক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে বলে মনে করেন ফিফা সভাপতি।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফা ভূ-রাজনৈতিক কোনো বিরোধ সমাধান করতে পারে না। কিন্তু আমরা ফুটবলের শক্তি ব্যবহার করতে চাই, ফিফা বিশ্বকাপ পরস্পরের মাঝে বন্ধন তৈরি এবং নিজেদের চিন্তাভাবনার মাঝে শান্তিপূর্ণ যোগসূত্র স্থাপন করতে পারে। এমনকি চলমান যুদ্ধে ভুক্তভোগী দেশের ক্ষেত্রেও আমাদের একই নীতি।’