ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চের চাপায় পিষ্ট হয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর আধা কিলোমিটার দূরে ভেসে উঠেছে মিরাজ (৫২) নামের এক ব্যক্তির লাশ। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নদী থেকে লাশটি উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদরঘাট নৌ পুলিশের ওসি সোহাগ রানা।
নিহত মিরাজ গত বুধবার ট্রলারে করে মাঝ নদীতে লঞ্চে উঠতে গিয়ে দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন।
লাশ উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে ওসি সোহাগ রানা বলেন, ‘বাবুবাজার ব্রিজ পেরিয়ে কেরাণীগঞ্জ লবণের মিলের বুড়িগঙ্গা নদীর অংশে লাশটি ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে বরিশুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠায়।’ পরবর্তীতে হাসপাতালে নিহতের স্বজনরা লাশটি শনাক্ত করেন বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। নিহত মিরাজ একই দুর্ঘটনায় নিহত সোহেলের শ্বশুর। এই ঘটনায় সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুবি বর্তমানে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বুধবার বিকালে তারা ট্রলারে করে মাঝ নদীতে থাকা লঞ্চে উঠতে যাচ্ছিলেন। তখন ঢাকা-ইলিশা রুটের ‘আসা যাওয়া-৫’ লঞ্চ এবং ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট রুটের ‘এমভি জাকির সম্রাট-৩’ লঞ্চের মাঝখানে ট্রলারটি চাপা পড়ে। একটি লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে যাওয়ার জন্য পেছাতে (ব্যাকগিয়ার) শুরু করলে দুই লঞ্চের মাঝখানে পড়ে যায় ইঞ্জিনচালিত ওই নৌকাটি। এতে এক যাত্রীর পা টুকরো হয়ে কেটে যায় এবং মিরাজ নামের ওই যাত্রী পিষ্ট হয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন।
এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে নৌ পুলিশ জানিয়েছে, মিরাজের ভাই সিরাজ ফকির শুক্রবার ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো ও অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে দায়ের করা ওই মামলায় সাত জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুই লঞ্চের পাঁচজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা দুই লঞ্চের স্টাফ ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বলে জানালেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে বুধবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দুটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিলের তথ্য দেন। প্রতিমন্ত্রী সে সময় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আমরা এসব বিষয়ে খুব সিরিয়াস। প্রকৃতপক্ষে যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হবে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেব। কারণ নৌপথে ছোট্ট দুর্ঘটনাও মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।’