Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টারিংয়ের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। আজ শনিবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল শুরু হবে।

এর আগে, শনিবার রাত দেড়টার দিকে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পলাতক সভাপতি মাজহারুল কবির শয়নের ফেসবুক পেজ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর কেন্টিন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, কেন্দ্রীয় মসজিদ,  কলা ভবন সংলগ্ন শ্যাডো, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া, সমাজবিজ্ঞান চত্তর, চারুকলা, হাকিম চত্বর, শামসুন্নাহার হল, কার্জন হল ও জগন্নাথ হলের বিভিন্ন দেয়ালে ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ সম্বলিত পোস্টার লাগানো হয়েছে। এর পরপরই রাত সাড়ে ৪টায় বিক্ষোভের ঘোষণা দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মোদাচ্ছির চৌধুরী।

এ বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মোদাচ্ছির চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আজকে আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি   নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ যারা জুলাই বিপ্লবে জনমানুষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং গণহত্যায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল। তাদের মুক্তির জন্য  ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগানো হয়েছে  এবং এটি শুধুমাত্র ক্যাম্পাসের একটি দুটি জায়গায় না বরং ক্যাম্পাসের অনেকগুলো জায়গায় এ পোস্টারিং করা হয়েছে। এটাতে  বোঝা যাচ্ছে যে আমরা কতখানি অনিরাপদ এবং এই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা তারা অবাধে ক্যাম্পাসের মধ্যে চলাফেরা করছে। 

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে  টিএসসির ইফতারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীকে দেখা গিয়েছে। সেটার জন্য একমাত্র জাতীয় ছাত্রশক্তি প্রক্টর এবং ভিসি বরাবর  স্মারক লিপি প্রদান করে এবং  প্রতিবাদ জানায়। আমরা  দেখতে পাচ্ছি যে শুধুমাত্র ক্যাম্পাসে এই নয় যে ছাত্রলীগের পুনর্বাসন হচ্ছে এবং এখানে কোন সন্দেহ নাই যে সারাদেশে ঠিক একই প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হচ্ছে। ক্যাম্পাসের কোন একটি পক্ষ ছাত্রলীগের এই পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে সহজ করে দিচ্ছে। আমরা এটাকে সন্দেহ চোখে দেখি এবং দেশের যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল টিমের ব্যর্থতা প্রত্যেকটা জিনিসই প্রতিয়মান হয়। 

এছাড়াও তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসু আসলে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে পুরোপুরি ব্যর্থ। যেখানে তারা আসলে ক্যাম্পাসের বহিরাগত নিধন কিংবা  ক্যাম্পাসের মধ্যে মোরাল পুলিশিং করতে দেখা যায়। কিন্তু  যেখানে তাদেরকে সবার আগে পাওয়া সেখানে আমরা এখন পর্যন্ত দেখি নাই যে ডাকসুর কোন ছাত্রলীগের এই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদেরকে তারা বাধা দিতে পেরেছে বা আটকাতে পেরেছে।  ডাকসুর যে ব্যর্থতা সেটাও আমাদের সামনে অনেক বেশি পরিষ্কার হয়ে যায়।