আজ ২১ শে ফেব্রুয়ারি উদযাপিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। 'মাতৃভাষা' এবং বিশেষ করে 'বাংলা ভাষা' নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এবং সংবাদমাধ্যমে নানাজন নানান আলাপ করছেন, মতামত দিচ্ছেন।
তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশি অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ আজ একটি মতামত নিবন্ধ প্রকাশ করেছে যেটির শিরোনাম, "হঠাৎই পাল্টে যাচ্ছে শব্দের ব্যবহার: বিবর্তন নাকি আগ্রাসন?"।
শাকিলা জেরিন নামের একজন তরুণ সাংবাদিক নিবন্ধটি লিখেছেন। একই দিনে দৈনিক প্রথম আলো তাদের ফেসবুক পেইজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তারিক মনজুরের একটি ভিডিও সাক্ষাতকার প্রকাশ করেছে; যেখানে তিনি বাংলা ভাষায় কয়েকটি আরবী শব্দের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এবং এসব আরবী শব্দের ব্যবহারের ফলে "বাংলা ভাষার বিকৃতি ঘটছে কিনা" সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
প্রথম আলো ভিডিওটির ক্যাপশনে লিখেছে, "ইচ্ছে করেই বাংলা ভাষার বিকৃতি করা হচ্ছে: অধ্যাপক তারিক মনজুর"।
ভিডিওর থাম্বনেইল ছবিতে জনাব তারিক মনজুরের একটি উক্তি ব্যবহার করা হয়েছে: "ইনসাফ, ইনকিলাব, ফয়সালা- এসব শব্দ বাংলা ভাষায় টিকবে না।"
অধ্যাপক মনজুর এসব শব্দের ব্যবহারকে বাংলা ভাষায় 'আরোপণ' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন; যার মর্মার্থ হলো, শব্দগুলো স্বতস্ফূর্তভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না এবং সেকারণে এগুলো বাংলা ভাষায় টিকবে না। ঢাবি বাংলা বিভাগের এই অধ্যাপক এই 'আরোপণ' এর পেছনে রাজনীতিও দেখতে পাচ্ছেন।
জনাব মনজুরের বক্তব্য থেকে আরও কয়েকটি উদ্ধৃতি নিচে তুলে দেয়া হলো: "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে একটা প্রশ্ন সবার মুখে মুখে ফিরছে যে শব্দ প্রয়োগ নিয়ে। আমরা ব্যবহার করছি 'ইনসাফ' শব্দ 'ন্যায়বিচার' এর বদলে। বা আমরা ব্যবহার করছি 'ফয়সালা' সেটি 'মীমাংসা'র বদলে। এখন এরকম যে শব্দের প্রয়োগ; এই আমরা বলতে কারা ব্যবহার করছে একটা ছোট অংশ। ফলে বড় একটা অংশের কাছে এই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে যে, এই যে শব্দ প্রয়োগ বা ভাষার ব্যবহার এর ফলে আসলে বাংলা ভাষার বিকৃতি ঘটছে কিনা। এবং ভবিষ্যতে এর মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা হুমকির সম্মুখীন হবে কিনা। প্রথমত, আমরা একটু পাকিস্তান পর্বের ইতিহাস ঘুরে আসি যে, পাকিস্তান নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরে ১৯৪৯ সালে মাওলানা আকরাম খাঁর নেতৃত্বে একটা কমিটি গঠন করা হয়। সেটা ইস্ট বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ কমিটি। এই কমিটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করেছিল এবং যেখানে কিছু সুপারিশ তারা করেছিল সেখানে আরবি ফারসি শব্দ ব্যবহারের জন্য আরোপের চেষ্টা করা হয়। মানে এটা জোরপূর্বক যেটা আমাদের ভাষাতে নেই সেটা ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত যে সচেষ্টতা সেটাকে আমরা বলি আরোপণ বা জোর করে সংযোজন। সেই রিপোর্ট যখন প্রকাশিত হয় তারপরে আমাদের এখানকার মনির চৌধুরী সহ যারা বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করেছেন তারা প্রবল আপত্তি তুলেছিলেন এবং সমালোচনা করেছিলেন।"
অধ্যাপক মনজুর আরও বলেছেন, "পরবর্তী সময়ে হুমায়ুন আজাদও তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন যে, এটা জাতীয়তাবাদী চেতনাকে নষ্ট করার চিন্তা। তাহলে ভাষার যে এই প্রয়োগগুলো শব্দের প্রয়োগ সেটাকে আমরা কিভাবে দেখবো? আসলে কি আমরা চাইলেই মানে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী চাইলেই কি ভাষার বড় অংশের যে কাঠামো সেটা কি বদল করতে পারে? আসলে না পারে না। এই আরোপণের মধ্য দিয়ে ভাষার বিকৃতিও আসলে ঘটে না। যে ব্যাপারটা ঘটে একটা অংশ তাদেরকে আলাদা করে দেখাতে চায় তার জাতিস্বাতন্ত্র, সে তার বিশিষ্টতা যেমন সে এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ করে। একইভাবে এর মধ্য দিয়ে সে আসলে ভাষার মূল কাঠামোকে আক্রমণ করার চেষ্টা করে। আমরা বলছি না যে, ফয়সালা ইনসাফ এসব শব্দ বাংলা ভাষায় থাকতে পারে না বা অভিধানে নাই তা কিন্তু নয়। বা বন্দোবস্ত শব্দও তো সেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে থেকেই ব্যবহার হচ্ছে। ভাষায় স্বাভাবিকভাবে যা ব্যবহার হয় অন্য ভাষার শব্দ হোক বা কাছাকাছি অন্য কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ বিদেশী শব্দ যাই হোক না কেন, সেই শব্দগুলো অনায়াসে ভাষার ব্যবহারকারীর মুখের উচ্চারণে এবং লেখার মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয় বা চলে আসে। কিন্তু যখন আমরা সচেতনভাবে বাড়তি কোন কিছু আরোপণের চেষ্টা করব সেটাই আসলে সর্বনাশের কারণ হয়। কিন্তু এটি যতটা না ভাষা বিকৃতির, তার চেয়ে বেশি এটা রাজনৈতিক ব্যাপার। ফলে আমরা আসলে এর মধ্য দিয়ে ভাষার জন্য হুমকি বলে কিছু দেখি না। কিন্তু আসলে জাতিগতভাবে আমাদেরকে বিভাজনেরই একরকম প্রচেষ্টা আছে বলে মনে হয়।"
জনাব মনজুর যে কয়টি আরবী শব্দের কথা তার বক্তব্যে উল্লেখ করে সেগুলোর ব্যবহারের উদ্দশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'ইনসাফ', 'ইনকিলাব', 'ফয়সালা', 'জুলুম' ইত্যাদি।
বিডিনিউজের প্রকাশিত নিবন্ধে সাংবাদিক শাকিলা জেরিনও তার লেখায় এই শব্দগুলোর সাথে আরও কয়েকটি শব্দের কথা উল্লেখ করে সেগুলোর ব্যবহারকে সমস্যাজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
শাকিলা লিখেছেন, "বাংলাদেশে এখন বহুল আলোচিত কিছু শব্দ ও তার উৎপত্তির দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। ইনসাফ, হিস্যা, মোকাম, মোবারকবাদ, ফিতনা, জুলুম, ফয়সালার মতো শব্দগুলো আরবি, উর্দু, ফারসি থেকে নেওয়া হয়েছে। অথচ প্রতিটি শব্দের সহজ ও অতীতে বহুল ব্যবহৃত বাংলা রয়েছে। যেমন, ইনসাফ শব্দটির সহজ ও ব্যবহৃত বাংলা ন্যায়বিচার, হিস্যা নয় আগে ব্যবহৃত হতো অংশ বা ভাগ। তেমনি মোকামের বাংলা স্থান বা বাণিজ্যিক জায়গা, মোবারকবাদের বাংলা শুভেচ্ছা বা অভিনন্দন, ফিতনা মানে বিরোধ বা অশান্তি আরও সহজ করে ঝগড়া বা ঝামেলাও ব্যবহার করা যায়। জুলুম শব্দটি বাংলায় নির্যাতন বা অত্যাচার, ফয়সালার বাংলা রায় বা সিদ্ধান্ত।"
বাংলা ভাষায় এসব শব্দের ব্যবহার 'হঠাৎ বেড়েছে' বলে দাবি করেছেন এই লেখিকা। বিডিনিউজ তার নিবন্ধের সারমর্মটি এক বাক্যে লিখেছে এভাবে, "সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির ভাষা, সংবাদের শিরোনাম এবং এমনকি দৈনন্দিন কথোপকথনেও হঠাৎ বেড়েছে কিছু নির্দিষ্ট আরবি, উর্দু, ফারসি ও ধর্মীয় পরিভাষার ব্যবহার।"
শাকিলা আরও লিখেছেন, " উপমহাদেশে উর্দু-আরবির প্রভাব পুরোনো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, হঠাৎ করে কেন বাংলা শব্দের জায়গা দখল করে এগুলো বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে? এ কি স্বাভাবিক বিবর্তন, নাকি আদর্শিক আগ্রাসন? শব্দ কি সত্যিই নিরপেক্ষ? কোন শব্দ ব্যবহার হচ্ছে আর কোনটি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়ছে তা ক্ষমতার ভাষা বলে দেয়। ‘ন্যায়’ থেকে ‘ইনসাফ’-এ রূপান্তর হলে শুধু ধ্বনি বদলায় না, ন্যায়ের ব্যাখ্যার কাঠামোও বদলে যায়। এটি সাংবিধানিক বা নাগরিক ধারণা থেকে ধর্মীয় ব্যাখ্যার দিকে ঝুঁকে পড়ে। একইভাবে ‘অংশ’ থেকে ‘হিস্যা’ বললে সম্পত্তি-অধিকার-বণ্টনের প্রশ্নে ধর্মীয় আইনের ছায়া পড়ে। শব্দ ধারণা বহন করে আর ধারণা রাজনীতি তৈরি করে।"
'ইনসাফ', 'ফয়সালা' 'জুলুম' ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার নতুন নয়
বিডিনিউজের প্রকাশিত নিবন্ধে যেমনটি দাবি করা হয়েছে-- 'ইনসাফ' 'জুলুম' 'ফয়সালা' ইত্যাদি আরবী শব্দ "হঠাৎ করে বাংলা শব্দের জায়গা দখল করে" নিচ্ছে-- কিন্তু বাস্তবে এই শব্দগুলোর ব্যবহার বাংলা ভাষায় বহু দশক ধরে রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের "অসমাপ্ত আত্মজীবনী" এবং "কারাগারের রোজনামচা" বই দুটিতে এই ৩টি শব্দ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
গুগলের ট্রান্সক্রিপশন টুল নোটবুকএলএম এর সাহায্যে বই দুটির পিডিএফ ভার্সনে উল্লিখিত ৩টি শব্দ ব্যবহারের যে চিত্র পাওয়া গেছে তা হলো:
'কারাগারের রোজনামচা' বইয়ে--
- 'জুলুম' শব্দটি অন্তত ১৮ বার ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'ইনসাফ' শব্দটি অন্তত ২ বার ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'ফয়সালা' শব্দটি অন্তত ৪ বার ব্যবহৃত হয়েছে।
'অসমাপ্ত আত্মজীবনী'তে--
- 'জুলুম' শব্দটি অন্তত ৭ বার ব্যবহৃত হয়েছে।
- 'ইনসাফ' শব্দটি অন্তত ২ বার ব্যবহৃত হয়েছে।
'কারাগারের রোজনামচা' এবং 'অসমাপ্ত আত্মজীবনী' গ্রন্থ দুটি শেখ মুজিবুর রহমানের লিখিত যেসব ডায়েরির উপর ভিত্তি করে সংকলন করা হয়েছে সেই ডায়েরিগুলো লেখা হয়েছিল, ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে। অর্থাৎ, প্রায় সাত দশক আগেই বাংলাদেশের রাজনীতির সবচচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজনের লেখায়ই এসব শব্দের বহুল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
বিএনপি-আ.লীগ-ইসলামপন্থী-বামপন্থী সবাই এসব শব্দ ব্যবহার করেন
দ্য ডিসেন্ট তাৎক্ষণিক কিছু সার্চের মাধ্যমে দেখতে পেয়েছে 'ইনসাফ', 'জুলুম' 'ফয়সালা' 'ইনকিলাব'-- এই শব্দগুলো দল/মত/মতাদর্শ নির্বিশেষে সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং বহুল ব্যবহৃত শব্দ। কোন নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা ধর্মীয় গোষ্ঠির মধ্যে এগুলোর ব্যবহার সীমাবদ্ধ নয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে সার্চ করে একাধিক পোস্টে 'ইনসাফ' 'জুলুম', 'ফয়সালা' ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার পাওয়া গেছে।
২০২৫ এর জুন মাসে পোস্ট করা একটি পোস্টারে লেখা ছিল, "১৬ জুন থেকে রাজপথেই হবে চূড়ান্ত ফয়সালা। রাজাকার-জঙ্গি ইউনুস সরকারের পতনের ডাক।"
শেখ হাসিনার একাধিক বক্তব্যেও 'জুলুম' শব্দের ব্যবহার দেখা গেছে বিগত বছরগুলোতে। যেমন, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা এক জনসভায় বলেছিলেন, "বিএনপির জুলুম-অত্যাচারের সঙ্গে একাত্তরের কোনো তফাৎ দেখি না"।
২০২৩ সালে আরেক জনসভায় দেয়া বক্তব্য থেকে হাসিনাকে উদ্ধৃত করে একটি পত্রিকার শিরোনাম হয়েছিল, "আমরা হাতে হাতে মোবাইল দিয়েছি, বিএনপি করেছে জুলুম"।
বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজেও রয়েছে অসংখ্যবার এসব শব্দের ব্যবহার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহু বক্তব্যেও এসব শব্দের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
যেমন, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিএনপির পেইজে পোস্ট করা একটি ছবির ক্যাপশন ছিলো: "ইনকিলাব জিন্দাবাদ! ঢাকা আসছে জনতা, ছাড়তে হবে ক্ষমতা। লংমার্চ টু ঢাকা ৫ই আগষ্ট ২০২৪, দুপুর ২টা, শাহবাগ, ঢাকা।"
২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে বিএনপির পেইজে পোস্ট করা হয়েছিল: "বাংলাদেশ যাবে কোন পথে? ফয়সালা হবে রাজপথে। --তারেক রহমান"।
২০২৫ এর এপ্রিল মাসে পোস্ট করা হয়, "আমরা জুলুম করে জুলুমকারীদের অন্যায়ের প্রতিশোধ নিতে চাই না। তারা যা করেছে আমরা তা করতে চাই না। ৩১ দফা বাস্তবায়নই হবে সব জুলম নির্যাতনের প্রতিশোধ। --তারেক রহমান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বিএনপি, ২৩ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার।"
২০২৪ এর ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির পেইজ থেকে পোস্ট করা হয়, "“ইনসাফ এবং উদারতা দিয়ে মানুষের মন জয় করুন” - নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান।"
বামপন্থী দল গণসংহতি আন্দোলন এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজেও ইনসাফ, জুলুম ইত্যাদি শব্দের নিয়মিত ব্যবহার দেখা গেছে।
ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজেও নিয়মিত এই শব্দগুলোর ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।
'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' স্লোগানটি বিএনপি দিয়েছিল
আজ (শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলা ভাষাকে মায়ের ভাষা বলতে হলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ চলবে না।
তিনি বলেন, ‘বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয় তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ এগুলো বাংলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। যারা আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিলো এগুলো তাদের ভাষা।’
তবে ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজের একাধিক পোস্টে (দেখুন এখানে, এখানে, এখানে ও এখানে) ''ইনকিলাব জিন্দাবাদ'' স্লোগানটি ব্যবহার করা হয়েছিল।