Image description
 

গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহ কিংবা মাঘ মাসের কনকনে শীত—সবকিছুকে উপেক্ষা করে দীর্ঘ ১৭ বছর খালি পায়ে কাটিয়েছেন সুরুজ পাঠান। দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, এমনকি দলীয় সকল কার্যক্রমও করেছেন খালি পায়েই। প্রতিজ্ঞা রক্ষায় দীর্ঘ ১৭ বছর খালি পায়ে থাকার খবর এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনায়।

 

তবে দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও বিএনপি ক্ষমতায় আসায় সুরুজ পাঠান আবার পায়ে জুতা পরেছেন। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের ইয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। তিনি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

 

তিনি পেশায় গ্রাম্য ধান-চাল ব্যবসায়ী এবং মৃত কাদির পাঠানের ছেলে। সুরুজ পাঠানের এই অটল রাজনৈতিক বিশ্বাসের গল্প এখন কলমাকান্দার মানুষের মুখে মুখে। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত খালি পায়ে চষে বেড়িয়েছেন পুরো উপজেলা। এমনকি আশপাশের জেলা শহরগুলোতেও গিয়েছেন খালি পায়েই।

 

জুতা না পরার প্রতিজ্ঞার বিষয়ে সুরুজ পাঠান বলেন, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়া শেষে আসরের নামাজের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। সে সময় ভিড়ের মধ্যে তার পায়ের একটি জুতা কাদায় আটকে খুলে যায়। অনেক চেষ্টা করেও সেটি আর তুলতে পারেননি। ক্ষোভ ও অভিমানে অপর জুতাটিও তিনি সেখানেই ফেলে আসেন। এরপর তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, যতদিন তার দল বিএনপি ক্ষমতায় না আসবে, ততদিন তিনি আর জুতা পায়ে দেবেন না।

দীর্ঘ ১৭ বছর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে খালি পায়েই ব্যবসা ও দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন সুরুজ পাঠান। সম্প্রতি দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দল ক্ষমতায় আসার পর তার সেই দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হয়। গত বুধবার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলে তাকে নতুন জুতা পরিয়ে দেন।

 

প্রতিজ্ঞা পূরণ হলেও একান্ত আলাপচারিতায় সুরুজ পাঠান তার মনের একটি সুপ্ত বাসনার কথা জানিয়েছেন। তার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল, যেদিন দল ক্ষমতায় আসবে এবং তারেক রহমান দেশের দায়িত্ব নেবেন, সেদিন তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাঠানো একজোড়া স্যান্ডেল বা জুতা তিনি পায়ে দেবেন। সেই স্বপ্নটি পুরোপুরি পূরণ না হওয়ায় একটি ছোট্ট আক্ষেপ তার মনে রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূইয়া বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমি তাকে বারবার অনুরোধ করার পরও জুতা পরেননি। এমন তীব্র শীত, যখন আমরা জুতা-মোজা পরেও থাকতে পারি না, সেই শীতেও তিনি খালি পায়ে হেঁটেছেন। তাকে এ অবস্থায় দেখে আমাদের খুব কষ্ট হতো। তখন তাকে জুতা পরতে বললেও তিনি তা পরেননি। দলের জন্য তার এই প্রতিজ্ঞা ও ত্যাগ সত্যিই অসাধারণ। বিএনপির জন্য এমন হাজার হাজার নেতাকর্মী রয়েছেন, যারা দলকে ভালোবেসে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। সুরুজ পাঠান তাদেরই একজন। তার কাছ থেকে আমরা অনেক অনুপ্রেরণা পাই।

সাইদুর রহমান ভূইয়া আরও বলেন, সুরুজ পাঠানের মতো নেতাকর্মীদের যেন আমরা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারি। তার একটি বিশেষ দাবিও রয়েছে। আমি যখন তাকে জুতা পরিয়ে দিই, তখন তিনি জানান যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহোদয়ের মাধ্যমে, আজকের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সামনে জুতা পরতে পারলে তিনি মনে শান্তি পেতেন। তার এই আকুতি ও মনের ইচ্ছাটুকুও আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন।