অতীতের মতো ‘দলকানা’ বা রাজনৈতিক পরিচয়নির্ভর কর্মকর্তাদের সরকার আর দেখতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) যশোরে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কেবল পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। এখানে কারও বিশেষ আনুকূল্য পাওয়ার সুযোগ নেই; পারফরম্যান্সই হবে কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের একমাত্র মানদণ্ড।
তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সবাইকে জবাবদিহির মধ্যে কাজ করতে হবে এবং সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে। অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে সমস্যা তৈরি হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রধানদের উদ্দেশে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আপনারা যশোরের হয়ে আমার কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেন। আমি আপনাদের হয়ে মন্ত্রণালয়ে দৌড়াবো। অতীতে জনগণের সঙ্গে কোনও প্রকার সংযোগ ছাড়াই কাজ হয়েছে। যে কারণে জনগণের কোনও সমস্যার সমাধান হয়নি। যশোর শিশু হাসপাতালের এনআইসিইউ, করোনারী কেয়ার ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ রূপ যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল, বিসিক ঝুমঝুমপুর এলাকায় ফায়ার ব্রিগেডের সাব স্টেশন, বিশেষায়িত হিমাগার তৈরির বিষয় কথা বলেন তিনি। এছাড়াও ভবদহসহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং খাল খননের বিষয় কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মুক্তেশ্বরী নদের জায়গা দখল করে প্লট হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে। অতীতে যারা সরকারি দলে ছিল তারাই এই অপকর্মগুলো করেছে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমার রাজনৈতিক দলের কোনও ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি এমন কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে দৃঢ়তার সঙ্গে আপনারা (প্রশাসন) ব্যবস্থা নেবেন। অতীততে জনগণের সম্পদ গ্রাস হয়েছে আগামীতে হবে না। আমরা আপনাদের কাজে সহায়তা করবো। আমার দলের কোনও ব্যক্তি যদি আপনাদের কাজে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে তাকে বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানান তিনি।
মাহে রমজানের প্রথম দিন পৌর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা অনির্বাচিত সরকার করতে পারে। নির্বাচিত সরকার পারে না। আমরা ফুটপাত দখল মুক্ত করবো, যানজট নিরসন করবো সবই ঠিক আছে। এ ক্ষেত্রে মানবিক হতে হবে। তাদের জন্য বিকল্প কিছু করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আবারও মাদক সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং মুক্ত নিরাপদ যশোর গড়ার অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে সভায় জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।