ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে ইতোমধে্য সরকার গঠন করেছে বিএনপি। প্রায় দুই যুগ পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৪টার কিছু সময় পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রথামবারের মতো উন্মুক্ত স্থানে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের মধ্যদিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করল। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন এই মন্ত্রিপরিষদে ২৫জন মন্ত্রী ও ২৪জন প্রতিমন্ত্রী স্থান পেয়েছেন। অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে নির্বাচিত ও অনির্বাচিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন করেছে দলটি।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি, স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। মোট ৪৯ সদস্যর মন্ত্রিপরিষদ গঠন হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার পদে কে আসছেন এখনও তা খোলাসা করেনি বিএনপি।
সূত্র জানায়, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও ড. আব্দুল মঈন খান এখনও কোনো পদে স্থান পাননি। এই তিন সিনিয়র নেতাকে নিয়ে ইতোমধ্যেই চলছে ব্যাপক আলোচনা। তারা কে কোন পদে আসতে পারেন সে সম্পর্কে দলের কোনো নেতা কোনো ধরণের মন্তব্য বা মুখ খুলতে চাননি। সবারেই বক্তব্য বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তিনি যাকে যে পদে উপযুক্ত এবং দলের জন্য কল্যাণকর তাকে সেই পদে বসাবেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নম্বর সদস্য। বয়সে প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অনেকটা অসুস্থ বিএনপির এই সিনিয়র নেতা কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা উপজেলা) আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এসেছেন।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, একটা নির্দ্দিষ্ট সময় পর খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের পর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো ধরণের মন্তব্য করতে চাননি। তবে তার খুব কাছের ঘনিষ্টজন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘স্যার রাষ্ট্রপতি পদ পাবেন কিনা ঠিক জানি না। তবে আমাদের ধারণা দল এই প্রবীণ নেতাকে শেষ বয়সে সম্মানজনক পদেই বসাবে। সেই অনুমানের ভিত্তিকে আমরা ধারণা করছি, স্যারকে বিএনপি চেয়ারম্যান দেশের পরবর্তি রাষ্ট্রপতি পদে বসাবেন।’
নাম না প্রকাশের শর্তে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ওই ঘনিষ্টজন আরও বলেন, স্যার এবার নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় তার নির্বাচনী এলাকায় সব সময় বলেছেন, এই নির্বাচন আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। তোমরা যদি আমাকে ভোটে বিজয়ী করে এক নম্বর করে দাও তবে আমার বিশ্বাস আমি রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তি হয়ে তোমাদের মুখ উজ্জল করব। এসব বক্তব্য স্যার প্রায় সব নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বলেছেন। আপনারা ফেসবুকে বা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে তা দেখতেও পাবেন। তবে, আপনারা সাংবাদিকরা জানেন, জাতীয় সংসদ অধিবেশ বসার পর সংসদ আলোচনার ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আর এটি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যেতে হবে। হঠাৎ করেই তো রাষ্ট্রপতি পদ পরিবর্তন হচ্ছে না। নির্ভর করছে জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর। এসব বিবেচনায় রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশের পরবর্তি রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন।
এছাড়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এখনও পর্যন্ত মন্ত্রীত্ব বা অন্য কোনো পদ পাননি। দলের সিনিয়র এই নেতাকে জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে বসাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপি একাই ১৯৩টি আসন অর্জন করেছিল এবং জোটের অন্যান্য শরিকসহ মোট আসন ছিল ২১৬। তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি একাই জয় পেয়েছে ২০৯টি আসনে, আর জোটের শরিকরা পেয়েছেন আরও ৩টি আসন। সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদে বিএনপি জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ২১২। তবে আরও দুটি আসনে জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে, যেগুলোর ফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসন যোগ হলে জোটের সদস্যসংখ্যা আরও বাড়বে।