Image description
 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলে হেরে গেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। হারের কারণ হিসেবে তিনি দায়ী করছে জোটসঙ্গী জামায়াতকে।

 

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি বর্ণনা করেছেন, জামায়াতের জোটসঙ্গী হয়েও কেন হারলেন তিনি।

 

সারোয়ার তুষারের ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হলো—

 

জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট হওয়ার ব্যাপারে আমার ভূমিকা নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন আছে। এ বিষয়ে আমার বলার তেমন কিছু নাই। যেটা বলতে চাই: দলের ভেতর আমার অবস্থান ছিল এরকম:

 
 

 

১. এনসিপিকে অবশ্যই নির্বাচন করতে হবে। দলের একাংশ নির্বাচন বিমুখ ছিল। কারণ, তাদের কোনো কন্সটিটিউয়েন্সি ছিল না। আমি জানাক (জাতীয় নাগরিক কমিটি) আমল থেকেই তিল তিল করে কনস্টিটিউয়েন্সি ডেভেলপ করেছি।

 

২. এনসিপির আরেক অংশের যুক্তি ছিল এরকম: যদি একটা আসনও না পাই, তবুও এনসিপিকে একক নির্বাচন করতে হবে। বলা বাহুল্য, এই অবস্থানকে আমার বরাবর আত্মঘাতী ও বাস্তবতা বিবর্জিত মনে হয়েছে।

 

৩. কাজেই একক নির্বাচন করা যাবে না। বিএনপি, জামাত সবাই জোট করবে, আর মাত্র তিন মাস আগে প্রতীক পাওয়া এনসিপির ওপর থাকবে একক নির্বাচনের চাপ। কারণ, এনসিপি ‘নতুন বন্দোবস্ত’—এ ধরনের আবেগী যুক্তিকে আমার খুবই খেলো ও বাস্তবতা বিবর্জিত মনে হয়েছে। আমি শুরু থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে সিরিয়াস ছিলাম এবং জেতার জন্য নির্বাচন করতে চেয়েছি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মতো ‘ভালো খেলা’র জন্য নির্বাচন করতে চাই নাই।

 

২. অতএব, এনসিপিকে কারো না কারও সঙ্গে জোট করতে হবে, এটা ছিল আমার অবস্থান। এবং সেটা করতে হবে দলীয় স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে।

 

৩. আমার অবস্থান ছিল এরকম: নির্বাচনে একটা বাইনারি হবে। ধানের শীষ বনাম অন্য মার্কা। আমি দুই মার্কার এক মার্কা হতে চেয়েছি সবসময়। কোনোভাবেই তিন মার্কার ইকুয়েশনে যেতে চাই নাই। একক নির্বাচনের নামে শাপলা কলি তিন মার্কার এক মার্কা হলে, আজকে শাপলা কলিকে খুঁজে পাওয়া যেত না। কারণ, নির্বাচন চলে বাইনারি লজিকে।

 

৪. জোটসঙ্গীর ক্ষেত্রে বিএনপি একেবারেই বিশ্বস্ত হবে না, এটা আমার ধারণা ছিল। একদিকে ‘সেলিম মডেল’ (দল বিলুপ্ত করে দিয়ে বিএনপিতে বিলীন হওয়া, সেলিম ভাই জিতেছেন, তাকে অভিনন্দন); অন্যদিকে ‘ইরান মডেল’ (লেবার পার্টি) তথা জোট থেকে বের হয়ে যাওয়া।

 

৫. এ কারণে জামায়াতকে জোটসঙ্গী হিসেবে অধিকতর বিশ্বস্ত মনে হয়েছিল আমার। তাদের কথা ও কাজে মিল থাকবে, এটাই ছিল অনুমান। তাদের ব্যাপারে মতাদর্শিক ও ঐতিহাসিক আপত্তির ব্যাপারে আমি অসচেতন ছিলাম না, কিন্তু এটাকে আওয়ামী-বাম স্টাইলে ডিল করাটা আমার রাজনীতি ছিল না। তাহলে কীভাবে ডিল করতে হবে? সেই আলাপ অন্য কোনো লেখায় করতে হবে।

 

আপাতত যেটা বলার, জামায়াতে ইসলামী জোটসঙ্গীর ব্যাপারে পূর্ণ যত্নশীল হবে, এমনটাই ছিল আমার ধারণা। আমার ক্ষেত্রে কেন তার ব্যত্যয় ঘটল, কেন তারা তাদের সামান্য একজন জেলার নেতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না (যেখানে বিএনপি হেভিওয়েট রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করেছে), তার উত্তর আমার জানা নাই।

 

মোদ্দা কথা, নির্বাচনি কৌশল হিসেবে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে দুই মার্কার এক মার্কা হতে হবে শাপলা কলিকে— এটাই ছিল আমার যুক্তি ও অবস্থান। আমার নিজের ক্ষেত্রে শেষমেশ মার্কা ওই তিনটাই থাকল, এবং এটাই আমার পরাজয়ের কারণ। নরসিংদী-২ এ শাপলা কলি দুই মার্কার এক মার্কা হলে আমি শতভাগ নিশ্চয়তাসহ জিতে যেতাম।

 

এশিয়া পোস্ট