Image description

নির্বাচনি প্রচারণার মাঠ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপি নেতার এক বিস্ফোরক বক্তব্যে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বালিয়াডাঙ্গী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান প্রকাশ্য জনসভায় দাবি করেছেন—স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির ‘সমঝোতা’ বা ‘কমিটমেন্ট’ হয়েছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে বালিয়াডাঙ্গী এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনি উঠান বৈঠকে তিনি এই বিতর্কিত বক্তব্য দেন। বক্তব্যটির একটি ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় নানা গুঞ্জন ও সমালোচনা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে মাহবুবুর রহমানকে উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে শোনা যায়, ‘ভোট দিতে গিয়ে আবার যদি বিএনপিকে ভোট না দেন, জামায়াতকে ভোট দেন—তাহলে কী হবে? আপনাদের সঙ্গে আমাদের অতীতের শত্রুতা আরও তীব্র হবে। অথচ আপনাদের সঙ্গে, আওয়ামী লীগের ভাইদের সঙ্গে আমাদের ‘কমিটমেন্ট’ হয়েছে’।

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা কোনো ঝামেলা করব না, ঝামেলা হবে না। এজন্য আমাদের কী করতে হবে? শুধু ভোট দিলে হবে না, একসঙ্গে ভোট করতে হবে যাতে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটে। অতীতে যা ক্রাইম হয়েছে, তা আর হবে না’।

সংখ্যালঘু ভোটারদের টানার চেষ্টা

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ওই নেতা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ ভাইদের সঙ্গে আছি। হিন্দু ভাইদের সঙ্গে আছি। হিন্দু ভাইদের জন্য আমরা বড় রকমের সহযোগিতা দেব’।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোটারদের আশ্বস্ত করতেই এমন ‘নরম সুর’ বেছে নিয়েছেন তিনি।

আন্দোলনের মুখে থাকা বিএনপির একজন নেতার মুখে আওয়ামী লীগের সঙ্গে এমন ‘গোপন সমঝোতার’ কথায় সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মাঝে চরম বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। দলের একটি অংশ বিষয়টিকে ‘নির্বাচনী কৌশল’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষের মনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের দিলীপ রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভোটের আগেই যত মধুর বচন। ভোট শেষ হলেই সব শেষ। জানি না তখন কী হবে আমাদের ভাগ্যে’।

বক্তব্যের বিষয়ে মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।