ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর জেলার তিনটি আসনের দুটিতেই বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোটের মাঠে কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা। বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও নির্বাচনে জয় পাওয়ার ব্যাপারে শঙ্কিত স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে জেলার দুটি আসনেই ঝুঁকিতে রয়েছে বিএনপি। এমন পরিস্থিতিতে মাদারীপুরে এসব আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের প্রার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন বলে মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারে ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের মাঠে নিজ দলের নেতাকর্মীদের ঐক্য ধরে রাখা এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব মোকাবিলায় বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
মাদারীপুর-১ আসনে ধানের শীষের টিকিট পেয়েছেন শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরা আক্তার। একই আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন এ আসনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী (ফুটবল) ও শিবচর উপজেলা বিএনপির কার্যকরী সদস্য কামাল জামান মোল্লা (জাহাজ)।
সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী লাবলু বলেন, আমি ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নেই। দলের চরম দুঃসময়ে প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। কী কারণে বা কোন অদৃশ্য শক্তির বলে আমায় মনোনয়ন দেওয়া হলো না, এটা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন রয়েছে। আমি নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকায় কোনো দুর্নীতিবাজ চাঁদাবাজের স্থান হবে না।
একই আসনে আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা বলেন, আমি এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম, আছি ও ভবিষ্যতেও থাকব। আমাকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ার পরও কেন বাতিল করা হলো তা আমার জানা নেই। আমি নির্বাচিত হয়ে এই আসনটি বিএনপিকে উপহার দিতে চাই।
মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে জেলার সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহানকে। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করি। তাই তৃণমূলের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জনগণও আমার সঙ্গে আছে। কোনো বিদ্রোহী বা দলের মান-সম্মান নষ্টকারীকে মানুষ ভোট দেবে না। দলের সঙ্গে যারা বেঈমানি করেছে, দলও তাদের সব পদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে। তাদের বিষয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আব্দুস সোবাহান। এ আসনে মোট প্রার্থী ১০ জন।
মাদারীপুর-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা মিল্টন বৈদ্য (কলস)। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে যখন বিএনপির কেউ প্রার্থী হতে চায়নি, তখন আমি প্রার্থী হয়ে বাড়ি-ঘর সব হারিয়েছি। কিন্তু এবার দল আমাকে মনোনয়ন দেয়নি। কিন্তু জনগণের চাওয়াকে তো অবমূল্যায়ন করতে পারি না। তাই তাদের চাওয়াতেই আমি প্রার্থী হয়েছি। জনগণ ভোট দিলে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমানকে এ আসনটি উপহার দেব।
মাদারীপুর-৩ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আনিসুর রহমান। কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় তিনি কিছুটা ফুরফুরা মেজাজেই গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর রফিকুল ইসলাম। এ আসনে ভোটের লড়াইয়ে রয়েছে পাঁচজন।