ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত হয়নি দিল্লির, এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক কূটনীতিকরা। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকের মতে, ভারতে এমন নজির নতুন কিছু নয়। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক এমন অস্বস্তি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। নির্বাচিত সরকার আসলে নতুন সূচনার সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত শুক্রবার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা। প্রচার করা হয় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অডিও বার্তা। এর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দিয়ে নিয়ম ভেঙেছে দিল্লি। নির্বাচিত সরকার এলেও দুদেশের সম্পর্কে এর প্রভাব থাকবে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের এমন বিশ্বাস নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে একটা সিদ্ধান্ত হয়ে আছে। তাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়াটা বন্ধুসুলভ কাজ হয়নি। এমনও না যে, ভারত বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা বোঝে না।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ভারতের জন্য এটা নতুন না। তারা দালাইলামাকে আশ্রয় দিয়েছে, তিনি বিভিন্ন কনফারেন্স করেন প্রকাশ্যেই।
শেখ হাসিনা ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে। তবে নির্বাচিত সরকারকে নতুন কৌশল নিতে হবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ভারতে জন্য এটা ব্যতিক্রম কিছু না। তাই বলে অনেকের সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়নি। আর সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, এই ধরনের বিষয় কিন্তু দু দেশের সম্পর্কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপড়েন দূর হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকেরা।