Image description

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মিজানুর রহমান নামে এক ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতা পরিচয় দেওয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

মিজানুর রহমান একই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির ৩৭ নম্বর সদস্য। তবে, তার দাবি, তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করেন। তিনি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং নির্বাচন পরিচালনার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

এ বিষয়ে মিজানুর রহমানের ভাষ্য, ‘আমি ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের না, মন থেকে জামায়াতের রাজনীতি পছন্দ করতাম।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিগত সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান। সেসময় তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, মিছিল ও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতেন।

২০১৯ সালে অনুমোদন দেওয়া খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ৩৭ নম্বর সদস্য মিজানুর রহমান। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর তাকে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে দেখা যায়। তিনি খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতির দায়িত্ব পান। শুধু তাই নয়, তাকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই ওয়ার্ডের কেন্দ্র পরিচালনার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এরপরই মিজানুর রহমান সদস্য থাকা খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনুমোদিত কমিটির তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে খাড়েরা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি নাসিরুদ্দিন বলেন, ‌“ফ্যাসিন্ট হাসিনা সরকারের সময় তিনি (মিজানুর রহমান) আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজের কুকর্ম আড়াল করতে জামায়াতে ইসলামের রাজনীতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। জনগণ এসব ভালো করেই বোঝে।”

খাড়েরা ইউনিয়ন কৃষকদলের সদস্য সচিব বাবুল মিয়া বলেন, “জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির এভাবে বারবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন দুঃখজনক। রাজনীতি আদর্শের জায়গা হলেও এখানে আমরা আদর্শ নয়, কেবল ব্যক্তিস্বার্থের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।”

জানতে চাইলে খাড়েরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি শরীফ উদ্দিন বলেন, “গত একবছর ধরে মিজানুর মেম্বার খাড়েরা ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি পদে আছেন। তিনি আওয়ামী লীগের ছিলেন—এমন কিছু আমার জানা নেই।”

ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, “আমি যখন মেম্বারের নির্বাচন করি, তখন জামায়াত-শিবির ট্যাগ দিয়ে আমার ৩০০ ভোট চুরি করা হয়েছে। ভাগ্যক্রমে এক ভোটে আমি জয়লাভ করি। তখন আওয়ামী লীগের সরকার থাকায় আমাকে বিভিন্ন কাজে থাকতে হয়েছে, নাহলে আমি কাজ পেতাম না। এলাকার স্বার্থে আওয়ামী লীগের মিটিং মিছিলে অংশ নিয়েছি। আমি ব্যক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের না, মন থেকে জামায়াতের রাজনীতি পছন্দ করতাম।”

কমিটিতে পদ থাকার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের কমিটি যখন দেওয়া হয়, তখন তো আমাকে কিছু বলে নাই। তারা আমার নাম দিয়েছে, আমি তা জানিও না, মানুষের কাছ থেকে শুনেছি।”