বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী রেজিমের ছায়ায় থাকা জাতীয় পার্টির (জাপা) অবস্থা টালমাটাল। অভ্যুত্থান পরবর্তী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও জাতীয় পার্টি এখনো রাজনীতির মাঠে রয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দলটি কোনঠাসা অবস্থায় আছে। পড়েছে ভাঙনের মুখে। বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা দল ছেড়ে আলাদা জাতীয় পার্টি গড়েছেন। তারা ‘আসল’ জাপার বাইরে একটি ফ্রন্টও গড়েছেন।
এমন অবস্থায় জি এম কাদেরের নেতৃৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি পড়েছে দোটানায়। নির্বাচনে অংশ নিতে নেতারা মনোনয়পত্র জমা দিলেও শেষ পর্যন্ত দলটি নির্বাচনে থাকবে কিনা এ নিয়ে খোদ নেতারাই দ্বিধায় আছেন। জাপা ২৪৩ আসনে মনোনয়ন ঘোষণা করলেও জমা দিয়েছে ২২৪ আসনে। বৈধ প্রার্থী বিবেচিত হয়েছেন ১৬৭ জন। নির্বাচনে থাকলেও দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের নির্বাচনী কার্যক্রমে এখনো দৃশ্যমান হচ্ছেন না।
দলীয় সূত্রের দাবি নির্বাচনে অংশ না নিতে একটি মহলের চাপ আছে। এই চাপের কারণে শেষ মুহূর্তে নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারে জাপা। তবে নির্বাচন না করলে আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে দলটির অবস্থান আবার আলোচনায় আসবে। তখন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারা যাবে কিনা এটিও নেতাদের বিবেচনায় রয়েছে। এ অবস্থায় কঠিন পরিস্থিতিতে আছেন জিএম কাদের।
নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে দলটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আমাদের বারবার আঘাত করা হয়েছে। পার্টি অফিসে আগুন দেয়া হয়েছে, প্রোগ্রাম করতে দেয়া হয় নাই। আমাদের অনেক যোগ্য প্রার্থী আত্মরক্ষার্থে মনোনয়ন নেয়ার সাহস পাননি। আমরাও তাদের উৎসাহিত করতে পারিনি। জাতীয় পার্টি ভোটমুখী দল। বর্তমানে জাতীয় পার্টি ভোট করতে আগ্রহী। তবে আমাদের যদি আগের মতোই মবের শিকার হতে হয় এবং প্রশাসন চেয়ে চেয়ে দেখে তখন আমাদের চিন্তা বদলাতে বাধ্য হবো।
দলটিকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেয়ার বিষয়ে তফসিলের পরও কথা উঠেছে। মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সিইসি’র সঙ্গে সাক্ষাত শেষে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে বাইরে রাখার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির অভিযোগ, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়। আসিফ মাহমুদ বলেন, জাতীয় পার্টি অতীতে ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী ছিল। আমরা চাই না তারা নির্বাচনে অংশ নিক। কমিশনের কাছে পরিষ্কারভাবে এই অবস্থান তুলে ধরেছি। নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের কোনো ধরনের পুনর্বাসন আমরা চাই না। ওদিকে নির্বাচনে জাপার বৈধ প্রার্থীরা অনেকেই ভয়ে আছেন। বরিশাল বিভাগের একজন প্রার্থী বলেন, আমি নির্বাচনে যে অংশ নেবো জনসংযোগ করার লোক পাচ্ছি না। যারা আমার কাছের লোক তারা দ্বাদশ নির্বাচনে যাওয়ার কারণে রাগ করে আছেন। এরপর যারা আছেন তারা ভয়েই আমার সঙ্গে আসবে না। এখন আমার প্রচারে বাধা আসলে আমি কী করতে পারবো সেটাও জানি না। তিনি আরও বলেন, ৫ই আগস্টের পর এলাকায় প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কোনো প্রোগ্রাম আয়োজনের সাহস করে উঠতে পারি নাই। এমনকি নির্বাচন ঘোষণার পর এলাকায় যাওয়ার সাহসও পাচ্ছি না। ভোট যে চাইবো কী বলে চাইবো? সেটাও বুঝতে পারছি না। নির্বাচন হবে কীনা সেটাও বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার বলেন, নির্বাচন না হওয়ার শঙ্কা অনেকের মধ্যেই আছে। জাতীয় পার্টিকে যাচাই-বাছাইয়ের পরও নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে। হুমকিটা মূলত এনসিপিই দিচ্ছে। এগুলো তফসিল পিরিয়ডে আমরা দেখি নাই।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে না। এ বিষয়ে একটু অবাকই হয়েছি। ফলে নির্বাচনটা শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধের দিকে যাচ্ছে। সরকার যদি শুরু থেকেই দক্ষ হাতে নির্বাচন পর্যন্ত দেশ না চালায় তাহলে আরও প্রশ্ন আসতে পারে।