Image description

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সাথি শরিক দলগুলোর জন্য যে কয়টি আসন সমঝোতা হয়েছে সেখানেও বেশ কয়েকটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহীরা ভোটের মাঠে রয়েছেন। এতে দলীয় ভোট বিভক্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সারা দেশে বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জোট প্রার্থী ও ধানের শীষের বিপক্ষে নির্বাচন করায় ইতোমধ্যে ৯ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। প্রত্যাহরের শেষ দিনও ভোটের মাঠ থেকে নিজেদের সরিয়ে না নিলে সবাইকে দল থেকে বহিষ্কারের মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন প্রথম ধাপে কেন্দ্র থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মনোনয়ন প্রত্যাহারে রাজি করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকৃতি জানালে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বরিশাল-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সোবহান। কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির প্রার্থী কুমিল্লা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস এম এ মতিন খান। কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিএনপিতে সদ্য যোগ দেওয়া এলডিপির সাবেক মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বিএনপির প্রার্থী। এখানে বিদ্রোহী চান্দিনা উপজেলা সভাপতি আতিকুল আলম শাওন। কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম। বিদ্রোহী প্রয়াত সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম দোলা। কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়া। এখানে বিদ্রাহী প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন আতাউর রহমান আঙ্গুর। তিনি বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সদর) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহ আলম ও বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

নড়াইল-১  আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপি নেতা ও জিয়া পরিষদের সদস্য অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন এবং নড়াইল-২ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ আসনে জোটের প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে দুই বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন কেন্দ্রীয় কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু ও শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মমিন আলী। মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন। তিনি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব।

শেরপুর-১ (সদর) বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা।

নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) বিএনপির বিদ্রোহী সাবেক চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল। সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসনে স্বতন্ত্রের ব্যানারে প্রার্থী হওয়া মামুনুর রশিদ মামুন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন।

গোপালগঞ্জ-২ ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এইচ খান মঞ্জু। বাগেরহাট-১ (ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও চিতলমারী) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম ও  জেলা বিএনপি নেতা প্রকৌশলী মো. শেখ মাসুদ রানা। বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর ও কচুয়া) আসনে দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম ও তার ভাই জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম।  বাগেরহাট-৩ (রামপাল ও মোংলা) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, তফসিল ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই দলের বিদ্রোহীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। তা না হলে দল থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিএনপির মতো বড় দলে যোগ্য প্রার্থী প্রচুর। প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়নি। আশা করছি, তারা প্রত্যাহার করবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। ৬০টিরও বেশি আসনে দলীয় পদে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন শতাধিক প্রার্থী। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে অন্তত ৩০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন নানা ত্রুটির কারণে বাতিল হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরও শুক্রবার শেষ হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। ভোট গ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি।