Image description

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর নির্বাচনী আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। প্রতিটি দলের সাথে জামায়াতে ইসলামী আলাদা করে বৈঠক করে আসন চূড়ান্ত করেছে। জোটের কোন দল কত আসন পাচ্ছে এটি আগামীকালের মধ্যে ঘোষণা হতে পারে বলে জোটের কয়েকজন নেতা এ কথা জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াত-এনসিপি জোট ইতিমধ্যে মাঠে প্রচারণা শুরু করেছে। অন্য জোটগুলোর ভেতরে আসন নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা ও বিশৃঙ্খলা থাকলেও এ জোট নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। আগামী দু’এক দিনের মধ্যেই এনসিপি জোট কত আসনে নির্বাচন করবে, তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামায়াত ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রেখে বাকি আসনগুলো অন্য দলগুলোকে ছেড়ে দিতে চায়। ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ৭টি, এলডিপিকে ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বিডিপিকে ২টি আসন ছাড় দেয়া হতে পারে। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে গত কয়েক দিনে জামায়াত একাধিক বৈঠক করেছে। বৈঠক থেকে ৪০ আসনে একধরনের সমঝোতা হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন আরও কয়েকটি আসন দাবি করছে। যেসব আসনে জামায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও শক্তিশালী প্রার্থী আছে। শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতা যাচাই করে ইসলামী আন্দোলনকে আরও কয়েকটি আসনে ছাড় দিতেও পারে জামায়াত।

এনসিপি যখন আসন সমঝোতার আলোচনায় যুক্ত হয়, তখন তাঁদের ৩০ আসনে ছাড় দেয়া হবে, এমন আশ্বাস দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন দলটির নেতারা। তবে এরপর আসন কিছুটা কমতে পারে, এমন গুঞ্জন ছিল। তবে আসন সমঝোতার লিয়াজোঁ কমিটি সূত্র জানিয়েছে, এনসিপিকে ৩০ আসনেই ছাড় দেয়া হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৫-৩০টি আসন চায়। সমঝোতা আলোচনার সর্বশেষ বৈঠকে দলটিকে ১৩টি আসন দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সমঝোতা না হওয়া আসনগুলোর কয়েকটিতে ছাড় চায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। তবে লিয়াজোঁ কমিটি সূত্র জানিয়েছে, দলটিকে শেষ পর্যন্ত ১৫টি আসনে ছাড় দেয়া হতে পারে। এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। তাঁর ছেলে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী হবেন। জামায়াত এই আসনসহ মোট ৭টি আসন এলডিপিকে ছাড় দিতে পারে।

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের নির্বাচন করবেন যথাক্রমে হবিগঞ্জ-২ ও হবিগঞ্জ-৪ আসনে। দলটিকে জামায়াত ৭টি আসন ছাড়তে পারে। তবে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আরও দু-একটি আসন বাড়তে পারে।

এবি পার্টিকে দুটি আসনে ছাড় দিয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুকে ফেনী-২ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়াকে (ফুয়াদ) বরিশাল-৩ আসনে ছাড় দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পটুয়াখালী-১ আসনে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার ঈগল প্রতীকের প্রার্থী। এ আসনে মো. নাজমুল আহসানকে প্রার্থী করেছিল জামায়াত। তিনি মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছেন। তবে আসন সমঝোতা হলে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। এবি পার্টির সঙ্গে এই তিন আসনে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা হতে পারে জামায়াতের। তবে এবি পার্টি দশের বেশি আসন দাবি করেছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সমঝোতার আলোচনা এখনো জোটগতভাবে চূড়ান্ত হয়নি। সমঝোতার একটা কমন নীতিমালা হওয়া খুব জরুরি ছিল, সে ক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়নি। তিনটি আসনে এবি পার্টির সঙ্গে সমঝোতার কথা ছিল প্রাথমিক আলোচনায়। দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আপত্তি ও অসন্তোষের কথা জানানো হয়েছে। সার্বিকভাবে যে অস্পষ্টতা বিরাজমান, তা আশাব্যঞ্জক নয়। তারপরও বৃহত্তর স্বার্থে সমঝোতাতে আসতেই হবে।

এদিকে বিডিপিকে দুটি আসনে ছাড় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দলটির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ময়মনসিংহ-৯ আসনে এবং মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম ভোলা-৩ আসনে নির্বাচন করবেন। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং জাগপা প্রতিটি দলকেই ১টি বা দুটি করে আসন ছাড়ের কথা ভাবছে জামায়াত।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে শীর্ষনেতাদের বৈঠকের পর তা ঘোষণা করা হতে পারে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোট আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে গত কয়েক মাসে দফায় দফায় আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে। দলগুলো হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। এরপর সেই সমঝোতায় যুক্ত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। সব মিলিয়ে দলের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১। আলোচনা চলমান অবস্থায়ই জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। এর পাশাপাশি এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি এবং বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।