Image description

সংসদকে কার্যকর রাখতে জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই সহযোগিতার নীতি নিয়ে এগিয়েছে। তবে সরকারের কর্মকাণ্ডে সংসদ অকার্যকর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম সংসদটা অর্থবহ হোক, কার্যকর হোক, ফাংশনিং হোক। প্রথম দিন থেকেই বিরোধিতা করে সবকিছু ওলট-পালট করে দেবো, এই ধরনের আওয়াজ আমরা তুলিনি।’

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, সংগত বিষয়ে সহযোগিতা ও সমর্থন এবং অন্যায় হলে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের নীতি নিয়ে তারা সংসদে কাজ করছিলেন। কিন্তু সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, তারা সংসদ কার্যকর থাকতে দিতে চায় না।

তার অভিযোগ, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা না করে সবকিছু রাতারাতি পাস করানো হচ্ছে।

এর উদাহরণ হিসেবে র‍্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাহিনীর নাম পরিবর্তন হলেও জনবল, কাঠামো ও অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। জামায়াতের প্রস্তাব ছিল, র‍্যাবের সদস্যদের নিজ নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে দিয়ে আলোচনা করে নতুন বাহিনী গঠন করা।

 
 

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে রায় মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন তা মানা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘কেয়ারটেকার মানেন নাই, মেনেছেন, সংস্কার মানেন নাই, মানতে হবে ইনশাআল্লাহ।’ সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকজন নিয়োগের অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান পরিবর্তন এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

পিএসসির পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেধার ভিত্তিতে চাকরির দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিলেন। অথচ এখন পিএসসির চেয়ারম্যানকে চা খাইয়ে বিদায় দেওয়া হয়েছে। পরে আরও দুজন সদস্যকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, সরকারের নেতারা তাদের সাড়ে ১৭ বছর নির্যাতিত ও বঞ্চিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘এটি জাতির, প্রতি যুবসমাজের প্রতি উপহাস। আমরা তার প্রতিবাদ করেছি, প্রতিবাদ করব।’

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। জামায়াত ওই আন্দোলনে অংশ নিলেও কখনো কৃতিত্ব দাবি করেনি বলে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান।

সরকারকে ভুল পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানান। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি নির্মূল এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তিনি।