Image description

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার নিজেকে ‘বিএনপির একজন নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক বক্তব্যে তার হাততালি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আই ওয়ান্ট টু বি ভাইরাল।’ তার এমন বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এই বক্তব্য সরকারি চাকরিবিধির সরাসরি লঙ্ঘন।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯: এই বিধিমালার বিধি-২৫(১) অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী সরাসরি রাজনীতি করতে পারবেন না।

এতে আরও বলা আছে, সরকারি কর্মচারীরা কোনো রাজনৈতিক দল বা এর কোনো অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে, যুক্ত হতে কিংবা দেশ বা বিদেশে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিতে বা সহায়তা করতে পারবেন না।

সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আওয়াল মজুমদার টাইমসকে বলেন, ‘এই ধরনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সরকারকে বিব্রত করবে সুতরাং সরকারের উচিত হবে এদের পছন্দ না করা।’

তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা অবশ্যই সরকারের অনুগত থাকবে এবং সরকারের নীতি ও কর্মসূচি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের মতো আচরণ ও বা নেতা দাবি করা অন্যায়।’

 

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান পীরগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর সেনগাঁও ইউনিয়নের একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করায় ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে তাকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

সংসদ সদস্যের দুই মিনিটের ওই বক্তব্যের সময় তার পাশে বসা ছিলেন ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার হাততালি দেন। ছবি: টাইমস

সংসদ সদস্যের দুই মিনিটের ওই বক্তব্যের সময় তার পাশে বসা ছিলেন ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার। তিনি তখন হাততালিও দেন। এই ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সরকারি কর্মকর্তার হিসেবে তিনি একটা করতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ইউএনওর আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম।

তিনি টাইমসকে বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে একজন সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক বক্তব্যে হাততালি দিতে পারেন? যেখানে সংসদ সদস্য আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজনকে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছেন, সেখানে ইউএনওর সবার আগে হাততালি দিয়ে সমর্থন জানানোর বিষয়টি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে ইউএন রব্বানী বলেন, ‘তাহলে লিখে দেন, এমপির সঙ্গে ইউএনও নির্বাচনি প্রচারণায়। এভাবে বলেন যে, ‘ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ, ঠিক আছে?’

একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে নিজেরে দলীয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন কি না, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যে দলের সরকার থাকত, আমি সেই দলেরই নেতা। বোঝা গেছে মেসেজটা? আমার দল আছে। আমার দল কী? সরকারি দল।’

 

এরপর তিনি বলেন, ‘তাহলে আপনার ওই অংশটুকুই খালি ক্লিপে বের করেন আর লিখে দেন, যাতে করে আমি একটু ভাইরাল হই সারা দেশে। আই ওয়ান্ট টু বি ভাইরাল, ওকে?’

কথোপকথনের একপর্যায়ে ইউএনও আরও বলেন, ‘এগুলোর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আমার কেন, আমার সেক্রেটারিরই নাই, আমার ডিসি স্যারের নাই, আমার কমিশনার স্যারের নাই। পরিষদের আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সব কাজ সংসদ সদস্যকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে।’

ইউএনওর এসব বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসি রফিকুল হককে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ইউএনও রব্বানীর বক্তব্য জানালে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী টাইমসকে বলেন, ‘এটা অসম্ভব। তিনি কি রাজনীতি করেন? তিনি তো সরকারি চাকরিজীবী। তিনি কীভাবে বিএনপি নেতা হবেন? বিএনপির নেতা বা কর্মী হতে তো একটা প্রক্রিয়া আছে। কেউ বলতে পারে, ‘আমি সমর্থক’, কিন্তু সরকারি কর্মচারীর তো সেটারও সুযোগও নেই। সরকারি কর্মচারী নিরপেক্ষ থাকবে।’

ইউএনওর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন–জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো আমার কাছে বিষয়টি আসেনি। আসলে তখন দেখব।’