ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন বলেছেন, আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত খামারির কূটচাল এখানে চলবে না। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুকে আইডিতে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন যা আমি এক বাক্য মেনে নিয়েছিলাম। প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে। পুরো ছক তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জনগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো।
ইশরাক হোসেন লেখেন, আমার শুভাকাঙ্ক্ষী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে দূরত্ব তৈরি করে আমাকে একঘরে করে ফেলত। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে হয়ত আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো। একই চক্র অতীতে তার বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। আমি তার প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী। আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি।
তিনি আরও লেখেন, আমার শুভাকাঙ্ক্ষী সবাইকে বলতে চাই, আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি। এই কথাগুলো আমি কেবল একটা স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য বলছি না। সবাই আমার কথাগুলো দেখবে। আমি শুধু অবাক হয়ে কয়েক দিন আগে বলা তার কথাগুলোর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছি। আর নিজ দলের সুযোগসন্ধানী কেউ যদি আঁতাত কারি হয়, প্রমাণ সাপেক্ষে, অনুমতি নিয়েই ‘পা**** চা****’ তুলে নেবো। আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনার পর সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন ইশরাক হোসেন।