দক্ষিণ কোরিয়াকে লক্ষ্য করে সীমান্তজুড়ে কয়েক দিনের মধ্যে আবারও প্রচার মাইক (Propaganda loudspeakers) চালুর প্রস্তুতি নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ‘প্রভাবশালী’ বোন কিম ইয়ো জং। দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার মধ্যে তিনি এ কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএতে (KCNA) তার এই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। এর এক দিন আগে তিনি বলেছিলেন, অক্টোবরের কোনো এক সময় পুরো সীমান্তজুড়ে এসব মাইক চালু করা হবে।
ঐতিহাসিকভাবে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তের ওপারে প্রচারণা চালাতে বিশাল আকৃতির মাইক ব্যবহার করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া এসব মাইকে পশুর ভয়ংকর ডাকের মতো শব্দ প্রচার করেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া প্রচার করেছে কে-পপ সংগীত এবং পিয়ংইয়ংয়ের সমালোচনামূলক খবর।
১৬ মাস পর আবারও সীমান্তের দুই পাশ থেকে মাইকে এই প্রচার চালানো হবে। উত্তেজনা কমাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ২০২৫ সালের জুনে দায়িত্ব নেয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই দক্ষিণের দিক থেকে প্রচার বন্ধ করে দেন। ওই বছরের আগস্টে দেশটির সামরিক বাহিনী মাইকগুলো খুলে ফেলে।
বৃহস্পতিবার সিউলে এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, উত্তর কোরিয়া এ পদক্ষেপ নিলে ‘স্বাভাবিকভাবেই এর সমানুপাতিক জবাব দিতে হবে’। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
সেপ্টেম্বর থেকে দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ওই মাসে সামরিক সীমানার দক্ষিণ পাশে স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হন।
১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি তদারককারী জাতিসংঘ কমান্ড ও সিউল সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, এটি উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা একটি কর্মীবিরোধী মাইনের বিস্ফোরণ এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। ওই চুক্তির মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধের অবসান না হলেও যুদ্ধ বন্ধ হয়েছিল। তবে পিয়ংইয়ং দায় অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ‘নিজেদের সাজানো প্রহসন’ বলে অভিহিত করে।
উত্তর কোরিয়া সীমান্তের নিজেদের অংশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার মধ্যেই প্রচার মাইক চালুর হুমকি দিল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে কিম জং উন দুই কোরিয়াকে ‘পরস্পরের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন দুটি রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে উত্তর কোরিয়া সীমান্তে মাইন পুঁতেছে, কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে এবং ট্যাংকবিরোধী প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।
বুধবার কিম ইয়ো জং উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও মার্শাল পাক জং চনের সঙ্গে সীমান্তের কয়েকটি সুরক্ষাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন।
তিনি বলেন, সীমান্তকে ‘আরও সুনির্দিষ্টভাবে বন্ধ করে আরও শক্তিশালী দুর্গে পরিণত করা হয়েছে’। তিনি আরও জানান, কিম জং উন তাকে বলেছেন, এটি ‘এমন একটি স্থায়ী সীমান্তরেখা হওয়া উচিত, যা কখনো অতিক্রম করা যাবে না’।
সিউলের দাবি, সীমান্তে নির্মাণকাজ চলার সময় উত্তর কোরিয়ার সেনারা বারবার দুই কোরিয়াকে বিভক্ত করা ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ সামরিক সীমানারেখা অতিক্রম করেছে। এর জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা মাইকে সতর্কবার্তা প্রচার করেছেন এবং সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছেন।
উত্তর কোরিয়া এসব সতর্কতামূলক গুলি ও সম্প্রচারকে ‘সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের’ উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করেছে।