হতে পারে মাওলানা মওদূদীর আকিদা একটা বড় কারণ। বিষয় হচ্ছে, এটা তো বহু বছরের একটা পূরাতন সমস্যা।
যারা জামায়াতের সঙ্গে মিশেছে, তারা সবাই জানে, জামায়াতের লোকজন মওদূদী (রহ.)-এর আলাদা কোনো আকিদা আছে বলে বিশ্বাস করে না। কিংবা তাঁর মতকেই মানতে হবে, এমন কোনো নির্দেশনা আছে বলেও তারা মনে করে না। জামায়াতের কোন নেতার বক্তব্যে কেউ দেখাতে পারবেনা তারা কখনো বলে মওদূদীর বিশ্বাসই আমাদের বিশ্বাস কিংবা শরীয়তের মাসালা বা ফিকাহর কোন বিষয়ে মওদূদী ( র ) কে দলীল হিসেবে পেশ করতে।
একজন লেখক যখন ঐতিহাসিক কোনো বিষয় নিয়ে লেখালেখি করেন, তখন ইতিহাসের ভালো-মন্দ, ভুল-সঠিক—দুটোই তুলে আনেন। সেখানে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে অন্যদের অনেক কিছুর মিল না-ও থাকতে পারে।
সে বিষয় নিয়ে আপনি মাওলানা মওদূদীর লেখার বিষয়ে দ্বিমত করতেই পারেন।
তাহলে বর্তমানে সমস্যাটা কোথায়?
আমার দৃষ্টিতে, সমস্যা হলো, বর্তমানে কওমি অঙ্গনের বহু তরুণ বা আলেম জামায়াতের বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা রাখেন, এমনকি অনেকে ভিতরে ভিতরে জামায়াতে যোগদানও করেছেন। একজন আলী হাসান উসামা ওদের ঘুম হারাম করে দিচ্ছেন, আর এ বিষয়টা তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।
আমি আজকে ইসলামী বইমেলার একটা ঘটনা বলি।
আমার মেয়েকে নিয়ে বইমেলায় গেলাম। আসরের নামাজের পরপরই তুমুল বৃষ্টি নামল। আমি তখন শিবিরের আইসিএস প্রকাশনীর স্টলের ভেতরে বসলাম। সামনে অনেক কওমি শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে আছেন। একটা ছেলে আমাকে বলল, আপনি সম্ভবত ইসলামী গান করেন। আমি পরিচয় দিয়ে কথা বললাম।
কিন্তু বিষয়টা হলো, সে তখন মাওলানা মওদূদীর খিলাফত ও রাজতন্ত্র বইটা দিতে বলল। আমি তাক থেকে বইটা নামিয়ে দিলাম। আমিই দিয়েছি, কারণ সে ভাবছিল, আমি এখানে বই বিক্রি করছি। যাই হোক, ছেলেটা বইটা কিনে নিল।
তখনই আমি ভাবলাম, এই যে ওদের মধ্যে জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে, মাওলানা মওদূদী আসলে কী লিখেছেন, সেটা একটু পড়ে দেখার—এটা তো ইতিবাচক বিষয়।
আমার ধারণা, ওরা যখন পড়তে শুরু করবে, তখন দেখবে, ওদের ওস্তাদ বা আকাবিররা যা বলেন, তার ৯০ শতাংশই হয়তো বানানো গল্প, হিংসা থেকে বলা কথা, কিংবা বক্তার নিজের না বুঝে বলা কথা। তখন ওদের ধারণা পাল্টে যাবে। তারা আরও বই পড়বে। এরপর তারা জামায়াতে যোগদান না করলেও জামায়াতের বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করবে।
এই যে কওমী রাজনীতিবিদদের কাছে মাওলানা মওদূদী খারাপ, কিন্তু তাঁর গড়ে তোলা রাজনৈতিক দলকে অনুসরণ করে দল পরিচালনার পদ্ধতি, বিভিন্ন উইং খোলা এবং সেগুলো পরিচালনা করা খারাপ নয় মনে করা সেটাকে আপনি কিভাবে দেখবেন ?
যাই হোক, এক হিসাবে ভালোই হচ্ছে যে কওমি অঙ্গনের ছেলেরা জামায়াতকে বোঝার চেষ্টা করছে।
একটা বিষয় বুঝলাম—বাংলাদেশে ইসলামের ক্ষমতায় আসার কোনো সম্ভাবনা নেই, সে জামায়াতই হোক কিংবা কওমি অঙ্গন থেকে অন্য কোনো দলই হোক। কয়েক মাসের মধ্যেই পুরো কওমি অঙ্গন সেই ইসলামি দলকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাবে। এর জন্য বিএনপি বা আওয়ামী লীগের প্রয়োজন হবে না।