Image description

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আসামিপক্ষের ভাষ্য, জামায়াতে ইসলামী যোগদানের কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, গালাগাল করতে ‘বাতিল মাল’ রাজনৈতিক দলে নিয়ে আসছে জামায়াতে ইসলামী।

এদিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতের অভিযোগে গ্রেপ্তার আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। পরে পুলিশ প্রহরায় তাকে প্রিজন ভ্যানে আদালত চত্ত্বরে আনা হয়। প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর সময় মাথায় পরানো হেলমেট ছুড়ে ফেলে দেন। পরে তাকে কাঠগড়ায় নেয়া হয়। সেখানে নিরাপত্তার অজুহাতে সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পরে তার রিমান্ড শুনানি শুরু হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আখতারুজ্জামানের পক্ষে তার আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তার এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেছেন, দেশবাসী জানে আখতারুজ্জামান স্বাভাবিক না। তার আচার-আচরণে বুঝা যায় তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় নেই; অস্বাভাবিক অবস্থায় আছে। তবে প্রতিবাদ করা অন্যায় নয়। তার প্রতিবাদ কোনও সাধারণ প্রতিবাদ ছিল না, অপরাধমূলক প্রতিবাদ ছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী এখন তারা কিছু লোককে রাজনৈতিকভাবে নিয়ে আসছে। এসব বাতিল মাল নিয়ে এসে মানুষকে গালাগাল, উশৃংখল বক্তব্য ছাড়া কিছুই তারা করে না। এমন কাজে জামায়াত তাদের সহযোগিতা করছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বিমানবন্দরে দুর্নীতি, ল্যাগেজ চুরি ও প্রবাসীরা হয়রানি হচ্ছে সেটার করার জন্যে নামেমাত্র আখতারুজ্জামানকে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা হওয়ার মতো কোনও উপাদান নেই। তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে তিনি একটি রাজনৈতিক দলে (জামায়াতে) যোগদান করেন। সেই কারণে মামলা দেওয়া হতে পারে বলে মনে করছি।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদের সঙ্গে আখতারুজ্জামানের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হুমকির অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর বিমানবন্দর থানায় আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি এবং নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে মামলা করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজীব।