বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পুরোনো দুর্নীতি মামলা, সম্পদের পরিমাণ ও এর উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তা যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি।
বারোঘন্টা আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টটিতে লাইক পড়েছে ১৮২ হাজার। আর, প্রায় ১১ হাজার ব্যবহারকারী তা শেয়ার করেছেন। সেইসাথে ১৪ হাজার তিনশ ফেসবুক ব্যবহারকারী এতে নানান মন্তব্য করেছেন।
হাসনাত তার পোস্টে দাবি করেন, ২০০৭ সালে এক কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার একটি বিশেষ আদালত ওই মামলায় সালাহউদ্দিন আহমদকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা জরিমানা এবং ঘুষের অর্থ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন।
পোস্টে হাসনাত বলেন, সরকারি কাজের সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আকতার হোসেন লিমিটেডের মালিক মীর জহির হোসেনের কাছ থেকে ওই অর্থ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০০৮ সালে অবৈধভাবে চার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে আরেকটি দুর্নীতি মামলায় ১৩ বছরের সাজা হয়েছিল বলেও দাবি করেন হাসনাত। পাশাপাশি চকরিয়ায় মাছের ঘের দখল-সংক্রান্ত দুটি মামলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
হাসনাতের দাবি, পরবর্তী সময়ে এসব মামলায় সালাহউদ্দিন আহমদ খালাস পান। এ প্রসঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে হওয়া দুর্নীতি মামলাগুলোকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তার দাবি, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যেকোনো ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব তলব করা হলে একইভাবে সব এমপি-মন্ত্রী ও তাদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাবও যাচাই করা উচিত।
সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে গুলশানের ‘প্লাটিনাম রেসিডেন্স’ অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে তার একটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হওয়ার কথা জানা যায়। গুলশানে তার একাধিক বাড়ি ও সম্পদ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনী হলফনামার তথ্য উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন আহমদ ও তার স্ত্রী হাসিনা আহমদের মোট সম্পদ ছিল ৬ দশমিক ৩ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে তা বেড়ে ১২ দশমিক ৭ কোটি এবং ২০২৫ সালে ৩০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এসব সম্পদের উৎস কী—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
হাসনাত আরও বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ১৯৯৬ সালে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যবসা করার সুযোগ ছিল না। সে সময় সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বেতন-ভাতা মিলিয়ে তিনি মাসে প্রায় ছয় হাজার টাকা পেতেন বলে দাবি করেন হাসনাত। তার প্রশ্ন, ওই আয় থেকে কীভাবে গুলশানে কোটি টাকার ফ্ল্যাট কেনা সম্ভব হয়েছিল।
পাশাপাশি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী থাকা, পরবর্তী সময়ে কারাগারে থাকা এবং বিএনপি বিরোধী দলে থাকার সময় কীভাবে তার সম্পদ বাড়ল—তারও ব্যাখ্যা দাবি করেন হাসনাত।
সালাহউদ্দিন আহমদের সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ওই অর্থের উৎস, বিদেশে অর্থ পাঠানোর বৈধতা এবং ঘোষিত আয় ও সম্পদ বৃদ্ধির মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য আছে কি না—তা জনস্বার্থে খতিয়ে দেখার দাবি জানান হাসনাত।
পোস্টের শেষাংশে হাসনাত বলেন, সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের প্রকৃত উৎস এবং এর স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হিসাব রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে এমপি-মন্ত্রীদের নিকটাত্মীয় ও আত্মীয়স্বজনের ব্যাংক হিসাবও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে নিয়মিত যাচাইয়ের আহ্বান জানান তিনি।
নিজের ক্ষেত্রেও একই ধরনের যাচাই শুরুর আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা দায়িত্ব নেওয়ার আগে ও পরে নিজেদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করেছিলেন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো একই ধরনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে কি না, সেটিও দেখতে চান তিনি।
ঢাকাটাইমস