Image description

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার (ক্রসফায়ার) দায়ে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন ডিআইজি মোঃ হুমায়ুন কবিরের দেয়া জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। জবানবন্দিতে সাবেক ডিআইজি উল্লেখ করেন, বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক নির্দেশ ও ক্ষমতার জোরেই বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২এ প্রসিকিউশন পক্ষ তদন্ত সংস্থায় দেয়া সাবেক ডিআইজি মোঃ হুমায়ুন কবিরের এই জবানবন্দি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আবেদন জানালে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন। একই দিনে এ মামলায় ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে।

মামলায় অভিযুক্ত চার আসামি হলেন-সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের সাবেক এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ, উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম এবং এএসআই মো. জসিম উদ্দিন। আসামিদের মধ্যে হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাবেক এসপি এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত দুই পুলিশ সদস্য মাহাবুল ও জসিমকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা ডিআইজি মোঃ হুমায়ুন কবিরের জবানবন্দি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আগৈলঝাড়ায় ফলবাহী একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় এসপি এহসানউল্লাহর তদারকিতে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জ থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে আগৈলঝাড়া এলাকায় তাঁদের বিচারবহির্ভূতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
জবানবন্দিতে ডিআইজি জানান, ঘটনার পর তিনি আগৈলঝাড়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ওসি জানানÑএসপি ধৃত দুই আসামিকে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ সদস্যরা তাতে রাজি না হওয়ায় এসপি এহসানউল্লাহ অন্য থানার (উজিরপুর থানা) পুলিশ সদস্যদের এনে এই হত্যাকাণ্ড কার্যকর করেন এবং নিজে থানায় গিয়ে জিডিতে নোট দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ডিআইজি হুমায়ুন কবির তাঁর জবানবন্দিতে আরও বলেন, এসপির এমন অপেশাদার আচরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২০১৫ সালে তিনি এহসানউল্লাহর বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে (এসিআর) বিরূপ মন্তব্য লিখে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠান এবং তাঁকে বরিশাল থেকে মাগুরায় বদলি করা হয়। তবে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হওয়ায় ‘শক্ত খুঁটির জোরে’ সেই বিরূপ মন্তব্য সত্ত্বেও এহসানউল্লাহ অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি পান এবং পুনরায় বরিশাল রেঞ্জেই পদায়ন পান। মূলত হাসানাত আবদুল্লাহর ক্ষমতার প্রভাবের কারণেই এহসানউল্লাহ ক্রসফায়ারের মতো অপরাধ করার সাহস পেয়েছিলেন।

মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ায় টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। তাঁরই পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী–গোপালগঞ্জ হাইওয়ের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ওই দুই নেতাকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়।