সরকার শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন করবে, এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আলফালাহ মিলনায়তনে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত আদর্শ শিক্ষক প্রশিক্ষণে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকদের জাতি গঠনে শিক্ষকতাকে মিশন ও ভিশন হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা, পেশাজীবী ও সিভিল সোসাইটি বিভাগীয় সেক্রেটারি প্রফেসর উম্মে নওরিনের পরিচালনায় কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগীয় সেক্রেটারি নাজমুন নাহার নীলু এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যা ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি জান্নাতুল কারীম সুইটি এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা, পেশাজীবী বিভাগীয় সেক্রেটারি ফাতেমা খাতুন।
কর্মশালায় ‘আদর্শ শিক্ষকের গুণাবলি’ বিষয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজের সাবেক শিক্ষিকা, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যা ড. জান্নাত আরা শেলী।
উদ্বোধনী বক্তব্য দেন প্রফেসর উম্মে নওরিন। তিনি প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এরপর দারসুল কুরআন পেশ করেন জান্নাতুল কারীম সুইটি। তিনি বলেন, অনেক যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পরকালমুখী না হওয়ার কারণে আমরা মহান আল্লাহর কাছে অসফল পরিগণিত হতে পারি। এজন্য আখিরাতের ভয়াবহতা এবং অধিক পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে বেঁচে থাকা উচিত।
অনুষ্ঠানে ‘শিক্ষকতা পেশায় দায়িত্ব পালনে সমস্যা ও সমাধানের উপায়’ বিষয়ে ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন ইম্পারিয়েন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক সাইয়েদা রাহাত তাসনিয়া ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দা রাফিজা সুলতানা। অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিক্ষকতা পেশার বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের উপায় খুঁজে বের করেন এবং তা উপস্থাপন করেন।
‘নৈতিকতা, সততা ও আদর্শ: একজন শিক্ষকের শ্রেষ্ঠ পরিচয়’ বিষয়ে বক্তব্য দেন নাজমুন নাহার নীলু এমপি। তিনি শিক্ষকদের যুগোপযোগী পাঠদানের পাশাপাশি নিজেদের নৈতিক মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী উত্তরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা, পেশাজীবী বিভাগীয় সেক্রেটারি ও আয়শা একাডেমির প্রিন্সিপাল ফাতেমা খাতুন কর্মশালাটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
এ আয়োজনে রাজধানীর দেড় শতাধিক নারী শিক্ষক অংশ নেন।