ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর আত্মীয়ের কাছ থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিমানবন্দর থানা বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১০০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বিমানবন্দর থানা বিএনপির সভাপতি আবদুর রউফ এবং বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত। এ মামলার অন্য দুই আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মির্জা তারেক বেগ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, প্রবাসীর ভাইয়ের দায়ের করা একটি মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।'
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) জানান, গ্রেপ্তারকৃত শান্ত ও রউফকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১০০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।'
মামলার এজাহার অনুযায়ী, মামলার বাদী মো. সুমন হলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি কাউসারের ছোট ভাই। গত ২৮ আগস্ট কাউসার মালয়েশিয়া থেকে পারিবারিক বিয়ে ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার বাংলাদেশে পাঠান। ওই দিন রাত ৮টার দিকে সুমন তাঁর বন্ধু রোহান চৌধুরীকে নিয়ে বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণালঙ্কারগুলো সংগ্রহ করেন। তাঁরা দুজনে ১০০ গ্রাম করে স্বর্ণ নিজেদের কাছে রেখেছিলেন।
স্বর্ণালঙ্কার সংগ্রহের পর তাঁরা বিমানবন্দর এলাকা থেকে একটি ভাড়া করা গাড়িতে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে বিমানবন্দর থানার বলাকা ভবনের বিপরীত পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পৌঁছালে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের গাড়ির গতি রোধ করে।
বাদী অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী পরিচয় দিয়ে তাঁদের কাছে বোমা রয়েছে বলে ভয় দেখায় এবং সুমনের ওপর হামলা চালায়। এরপর তারা জোরপূর্বক সুমনের কাছ থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হতে শুরু করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। এক পথচারী ভুক্তভোগীদের বাঁচানোর চেষ্টা করেন এবং অন্য একজন পুরো ঘটনাটি নিজের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করেন। গণজমায়েত বাড়তে দেখে আসামিরা স্বর্ণের ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরদিন ২৯ আগস্ট সুমন বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নম্বর ৪৬।
মামলায় আবদুর রউফকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত এবং বিমানবন্দর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ আসামি করা হয়েছে।