Image description

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার এফ করিম আলিম মাদ্রাসায় নিয়মিত পাঠদান বন্ধ রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (২৭ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে জিয়ানগর এফ করিম আলিম মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলাই দ্বিতীয় বর্ষ উদযাপন’ উপলক্ষে আলোচনা সভা, বক্তৃতা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সরেজমিনে দুপুর ১২টার দিকে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে ছাত্রশিবিরের ব্যানারে কর্মসূচি চলছিল। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় নিয়মিত পাঠদান বন্ধ ছিল বলে দেখা যায়।

এ ঘটনায় কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস বন্ধ রেখে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচি আয়োজন শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সহকারী সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা ইকবাল হোসেন বলেন, “প্রায় সাত দিন আগে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জুলাইকে কেন্দ্র করে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের মৌখিক অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। আমরা চারটি ক্লাস শেষ হওয়ার পর অনুষ্ঠান করার মৌখিক অনুমতি দিয়েছি। তবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত আবেদন দেওয়া হয়নি এবং আমরাও লিখিত কোনো অনুমতি দিইনি।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হান্নান বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি দিয়ে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি বা অন্য কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের সুযোগ নেই। বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে জবাবদিহি করতে হবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাহাতুল ইসলাম বলেন, আমরা দুপুর ১১টা ৪৫ মিনিটে লাঞ্চ টাইম ধরে অনুষ্ঠান শুরু করেছি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়েই কর্মসূচি করেছি।”

একই বক্তব্য দিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আলী হোসেন বলেন, “ক্লাস বন্ধ করে কোনো কর্মসূচি করা হয়নি। বিরতির সময় ‘জুলাই-২৪’ বিষয়ক একটি কুইজ প্রতিযোগিতা ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা প্রশাসক হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। বিষয়টি আপনারা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে জানান, ক্লাস বন্ধ রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি বিষয়টি আমি তদন্ত করে গুরুত্ব সহকারে দেখছি।