Image description

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি মানিক মিয়া (৪০) হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনবিরোধী বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে শোয়েব মুন্সীকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার কোনো অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না বলেও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশক্রমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শোয়েব মুন্সী ও তার সহযোগীরা মানিক মিয়াকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বুধবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি। তিনি পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। নিহতের ভাই সুখ মিয়া অভিযোগ করেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে শোয়েব মুন্সী ও তার সহযোগীরা তার ভাইকে মারধর করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে স্ত্রীর কাছে দিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর অভিযুক্তদের লোকজন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে ভর্তি করান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) জবায়দুল হক বলেন, স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে মানিক মিয়াকে মারধর করা হয়েছিল। তবে হাসপাতালের ভর্তি ফরমে কেন সড়ক দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি স্পষ্ট নয়।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।