Image description

সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘নিঃশর্ত আনুগত্য’ নয় বলে মন্তব্য করেছেন জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস। ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ন্যাটো কোনও একক দেশের নির্দেশে নয়, বরং সব সদস্য দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।

 

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সাপ্তাহিক সাময়িকী ডের স্পিগেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ন্যাটো কোনও একক সদস্য দেশের আধিপত্যে পরিচালিত হয় না। বরং জোটের সব সিদ্ধান্ত সদস্য দেশগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেয়া হয়।

সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ‘ট্রাম্প জার্মানিসহ ন্যাটো সদস্যদের কাছ থেকে আনুগত্য চান, যার অর্থ নিঃশর্ত আনুগত্য। আপনি কি এতে একমত?’ জবাবে পিস্টোরিয়াস বলেন, ‘নিঃশর্ত আনুগত্য ন্যাটোর ধারণা নয়। ন্যাটোর সিদ্ধান্ত সব সদস্য রাষ্ট্রের স্বাধীন ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেয়া হয়। কোনও একক সদস্য রাষ্ট্রের নির্দেশে নয়।’

তিনি বলেন, ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে মতপার্থক্যের সময় ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষা কখনও কখনও ‘কিছুটা কঠোর’ হতে পারে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন এতে অভ্যস্ত এবং তারা যৌথ স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

পিস্টোরিয়াস জোর দিয়ে বলেন, জার্মানি বাইরের কোনও চাপের কারণে নয়, নিজেদের বিশ্বাস থেকেই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে ব্যাপক বিনিয়োগ করছি। জার্মানি এবং আমাদের ন্যাটো মিত্রদের নিরাপত্তার জন্য জার্মান সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্ষমতা বাড়াতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

 

তবে তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় মিত্ররা ন্যাটোর প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার, বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই ক্ষতি হয়েছে।

তার মতে, এখন সেই পরিস্থিতি বদলেছে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা এমন একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, যা সবাই মিলে বাস্তবায়ন করব।’

সম্প্রতি নির্ধারিত নতুন প্রতিরক্ষা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলো এখন প্রতিরক্ষায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছে এবং জোটের সম্মিলিত নিরাপত্তার দায়িত্বও আগের চেয়ে বেশি করে নিচ্ছে।