বিগত ২০ বছর ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা নির্যাতিত ও বঞ্চিত হয়েছেন উল্লেখ করে কুষ্টিয়া-২, ৩ ও ৪ আসনের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন বলেছেন, কে জামায়াতে ভোট দিয়েছে, কে দাঁড়িপাল্লার সঙ্গে ছিল কিংবা কে আওয়ামী লীগে নাচানাচি করেছে, সব আমার সার্ভেতে (জরিপ) রয়েছে; আগামী দিনে তাদের আর ওপরে ওঠার কোনো সিঁড়ি থাকবে না।
একই সঙ্গে প্রশাসনকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নতুন করে কোনো নির্যাতন বা ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করা হবে না।
শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসনের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, এই কুমারখালী-খোকসাতে যদি থাকতে হয়, তাহলে এখানকার বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। কোনো প্রশাসনকে আমরা বলব না যে আপনারা কারও পক্ষে (ফেভার) কাজ করেন; আপনারা জনগণের সঙ্গে থাকবেন, জনগণের ভালো-মন্দ চিন্তা করবেন। তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি কোনো প্রশাসন ষড়যন্ত্র করে আপনাদের নিগৃহীত করতে চায়, তাকে এখানে রাখা হবে না। তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়া আমার দায়িত্ব।
দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আমার নেতাকর্মী ২০ বছর নিগৃহীত হয়েছে, আপনারা তো সুখে ছিলেন। কেন এখন সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে? আমি এখানে কারও পূজা করতে আসিনি, সবাইকে নিয়ে কাজ করতে এসেছি। এক ছাতার তলে সবাইকে আসতে হবে। এ সময় যারা দলের নির্দেশ অমান্য করবেন বা সমন্বয় করবেন না, তাদের জবাবদিহি করতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
নেতাকর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমি চেয়েছি সবাইকে এক ছাতার নিচে একত্রিত করতে। কিন্তু যদি আপনারা সেই সহযোগিতা আমাকে না করেন, তবে আমি (হাইকমান্ডে) রিপোর্ট করতে বাধ্য হব। আমি কোনোদিন কারও বিপক্ষে যেতে চাই না, কিন্তু আমাকে বাধ্য করবেন না।
সভায় অনুপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে এই এমপি বলেন, আমি কাউকে বাদ দিতে চাই না, সবাইকে নিয়ে হাঁটতে চাই। কিন্তু আপনারা কেন আজকের সভায় অনুপস্থিত ছিলেন, এর কৈফিয়ত দিতে হবে। তিনি আরও জানান, আগামী ১৭ বা ১৮ তারিখের দিকে তিনি আবার এসে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে যৌথ সভা করবেন।
কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নওয়াব আলী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জিলাল, কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম লিপন এবং পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম আলম টমে। সভায় জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।